প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল প্রবাসীর মরদেহ, আকাশ, সড়ক ও নৌপথ পেরিয়ে।
২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তারেক রহমান (৩১) ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করে তিনি গত ১৩ বছর ধরে নিয়মিত দেশে টাকা পাঠিয়ে আসছিলেন।
কিছু বছর পর দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলো না। গত ১৯ আগস্ট মালয়েশিয়ায় বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের সময় তিনতলা থেকে পড়ে তার মৃত্যু ঘটে।
গত বুধবার রাতে বিমানযোগে তারেকের মরদেহ মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার একটি হিমায়িত লাশ পরিবহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সে করে তার মরদেহ টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিকেলে ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিনে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় মরদেহ। সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
তারেকের জেঠাতো ভাই আল ছাবের বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন তারেক। বিভিন্ন সময়ে ফোনে কথা হলে বলতেন, এতদিনে দেশের জন্য খুব মায়া হচ্ছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের প্রকৃতি তাকে টানত। একবার পরিবার নিয়ে দেশে ফিরে ঘুরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন।’
আল ছাবের আরও বলেন, ‘তারেক দেশে ফিরেছেন, নিজের জন্মভূমি সেন্ট মার্টিনের মাটিতেও ফিরেছেন। তবে ফিরেছেন প্রাণহীন নিথর দেহ হয়ে।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে তারেকের মরদেহবাহী ট্রলারটি সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছালে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন। স্বজন ও গ্রামের মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর শুরু হয় শোকের মাতম।
স্বজনেরা জানান, তারেক সেন্ট মার্টিনের এক নারীকে বিয়ে করে তাকে ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। তাদের সংসারে তিন বছর ও ছয় মাস বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তারেকের মরদেহের সঙ্গে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও বিমানে বাংলাদেশে আসেন। স্বামী ও বাবার মরদেহের পাশে বসেই তারা ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তারেকের মরদেহ দেশে আনতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন তারা। সরকারের আন্তরিক উদ্যোগের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তারা।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুর রহমান বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিনে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
তারেকের মৃত্যুর পর বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মালয়েশিয়াপ্রবাসী জামাল হোসাইন বলেন, মালয়েশিয়া সরকার ও স্থানীয় ঠিকাদার সরাসরি যুক্ত থাকা বড় নির্মাণকাজগুলোতে সাধারণত শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের নাগরিকদের সাব-ঠিকাদার, তদারককারী বা ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায় না। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণে শ্রমিকেরা ঝুঁকিতে পড়েন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন