প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের সীমান্ত-বাণিজ্য ও বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং দক্ষ করে তুলতে এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কাঠামোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক নথিপত্রের ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণ সহজতর হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো-কাগজের নথিপত্রের জায়গায় ধাপে ধাপে নিরাপদ ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু করার মাধ্যমে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত বাণিজ্য করিডোরগুলোতে ‘ডকুমেন্টারি কালেকশন’ এবং ‘লেটার অব ক্রেডিট’ (এলসি)’র মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন বিধিমালার আওতাধীন রপ্তানি ও আমদানি লেনদেনে এ কাঠামো প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ইউআরসি), ইলেকট্রনিক ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ই-ইউআরসি), ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিটস (ইউসিপি) এবং ইলেকট্রনিক ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস (ই-ইউসিপি)।
এ কাঠামোর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হবে। ফলে বাণিজ্যিক নথি ডিজিটালভাবে ইস্যু, হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে এবং অনুমোদিত পাইলট ব্যবস্থার আওতায় ইলেকট্রনিক নথিভিত্তিক ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।
সার্কুলারে বলা হয়, এ কাঠামো পাঁচটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এগুলো হলো- বিভিন্ন সিস্টেমের মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবলিটি), প্রযুক্তি-নিরপেক্ষতা, ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতিতে নথির সত্যতা বিকেন্দ্রীকৃতভাবে যাচাই, তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং ইলেকট্রনিক ও কাগজভিত্তিক বাণিজ্যিক নথির সমান আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা।
এই পাইলট কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রস্তাবিত বাণিজ্য করিডোর, অংশীদার প্রতিষ্ঠান, লেনদেনের ধরন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ জমা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন নিতে হবে।
এ কাঠামোর আওতায় ব্যাংকগুলো নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল স্বাক্ষর এবং প্রমাণীকৃত আন্তঃব্যাংক বার্তা বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক চালান (কমার্শিয়াল ইনভয়েস), ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিংসহ পরিবহন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং বিল অব এক্সচেঞ্জ প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে।
নথির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইলেকট্রনিক রেকর্ডের স্বকীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। অননুমোদিত পরিবর্তন প্রতিরোধ করতে হবে এবং এনক্রিপশন, টাইম-স্ট্যাম্পিং ও টেম্পার-প্রুফ অডিট ট্রেইলের মাধ্যমে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই পাইলট কর্মসূচিটি অনুমোদিত বাণিজ্য করিডোরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এই পরীক্ষামূলক ধাপের সফল সমাপ্তি এবং পরবর্তী রেগুলেটরি মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এই ডিজিটাল বাণিজ্য নথি ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রপ্তানি নথি নিরাপদভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দাখিলের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সার্কুলার জারি করেছিল, এ নতুন উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে অধিক দক্ষ ও গতিশীল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন