প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় একটি স্কুলছাত্রীকে (১৫) দফায় দফায় তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে আদিতমারী থানায় অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা। এ ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে, ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে এ মামলাটি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর বুধবার (৮ জুলাই) পুলিশ ভুক্তভোগী কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান ফুলতলা (৪০) প্রথমে ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে ২৭ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে লিচুবাগানে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তার মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন এবং বাগানে ফেলে রেখে চলে যান। বিষয়টি প্রকাশ হলে মোখলেছার রহমান সহ তার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে স্কুলছাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় কোনো রকমে বাড়িতে ফিরে আসেন।
এরপর ১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় মোখলেছার রহমান আবারও ওই স্কুলছাত্রীকে ডেকে নেন। পেছনে প্রথমে তাকে রংপুর নিয়ে গিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে এক বন্ধুর বাসায় রেখে আবারও ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ সময় স্কুলছাত্রী চিৎকার করে ছুটে গিয়ে বাইরের লোকজনের সহায়তা নেয়। সেখানে উপস্থিত লোকজন মোখলেছার রহমানকে মারধর করে ছেড়ে দেয় এবং স্কুলছাত্রীর কাছ থেকে বাড়ির মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে ঢাকার গাজীপুর থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
পরে অসুস্থ অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে মঙ্গলবার রাতে মোখলেছার রহমান ফুলতলা ও তার সহযোগী দুই নারীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেছেন ওই স্কুলছাত্রীর বাবা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী জানিয়েছেন, মোখলেছার রহমান ফুলতলা খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার ভাই মহুবর রহমান এই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। মামলাটি নষ্ট করার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে ঢাকায় নিয়েছিল। আমি গরিব মানুষ। টাকাপয়সা নেই। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর অন্যায়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ামাত্র আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। বুধবার ভিকটিমকে (স্কুলছাত্রী) ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন