প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক ৪ আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, আদালতের অর্ডার শিটের আদেশ কাটাকাটি ও নথি গায়েব করায় গাইবান্ধায় জেলা বারের আইনজীবী, গোবিন্দগঞ্জ কোর্টের সাবেক জিআরওসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছেন গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও আদেশ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ আদালতে এ আদেশ পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট শেফাউল ইসলাম রিপন, জিআর মো. হাসান আলী এবং জিআর মো. আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতফেরত তরুণীকে আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগ ওঠে জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, আদালতের নথি গায়েব ও আদেশ কাটাকাটির অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে ।
আদালত সূত্র জানায়, এরপর শিশু আদালত চাঞ্চল্যকর এই বিষয়টির বিষয়টি তদন্তভার দেন গোবিন্দগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসানকে। তিনি গত ১৯ আগস্ট শিশু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, তার মুহুরী হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিল এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে এমন ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য কালো অধ্যায় বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চসহকারীকে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলার নির্দেশ দেন।
এদিকে জেলা বার সূত্র জানায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আলোচিত সাইবার হ্যাকার চক্রের প্রধান আসামি দুই সন্তানের জনক পলাশ রানাকে শিশু দেখিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে জামিন আদায়ের ঘটনায় জড়িত থাকা গাইবান্ধা জেলা অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শেফাউল ইসলাম রিপনের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন গাইবান্ধার অ্যাডহক কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা বারের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সেকেন্দার আজম আনাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন