প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার আরও দক্ষ হবে। এতে নাগরিক সেবা সহজ হবে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণের (ইডিজিই) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে ৫ দিনব্যাপী 'স্ট্যাট্রিজিক ইউজ অব এআই টুলস এন্ড সাইবার সিকিউরিটি ফর পিএমও অফিসিয়ালস' সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জন্য অপরিহার্য। এর মাধ্যমে সরকার কিভাবে দ্রুত এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারে তা প্রমাণ হবে। প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং নাগরিক সেবা উন্নত হবে।
এছাড়াও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়ানো হবে। বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রদর্শন নয়; বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ করা। আমরা একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি, যেখানে নাগরিকরা সহজে ও দ্রুত সেবা পাবেন, সিদ্ধান্ত তথ্যভিত্তিক হবে এবং প্রশাসন আরও কার্যকর, দক্ষ ও জনবান্ধব হবে।
উপদেষ্টা আরও জানান, সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব শুরু হয়েছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে রাষ্ট্র পরিচালনা, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার প্রশাসনকে আরো দক্ষ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সক্ষম।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হচ্ছে তথ্য বিশ্লেষণে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজে, কর্মের গতি বৃদ্ধিতে এবং সেবার মান উন্নয়নের জন্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়, বরং মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। প্রযুক্তি কখনও মানুষের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের বিকল্প নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রজ্ঞা দ্বারা পূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণের প্রকৃত সফলতা নির্ভর হবে কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তবায়নের ওপর। এই জ্ঞান সরকারি কাজ ও সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি স্মার্ট, দক্ষ ও জনগণমুখী প্রশাসন গড়ে তোলা। স্মার্ট জনপ্রশাসন নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমিয়ে কর্মকর্তাদের আরো গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করার সুযোগ করবে। ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বেড়ে যাবে এবং নাগরিকরা দ্রুত, সহজ ও মানসম্মত সেবা পাবেন।
মো. জবিউল্লাহ আরও বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও আসবে। তাই এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের জনগণকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে কিছু প্রচলিত বা রুটিন কাজের ধরন পরিবর্তন হতে পারে। পাশাপাশি নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে। এজন্য কর্মকর্তাদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে হবে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান, ডিজিটাল দক্ষতা ও তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে হিউম্যান এআই সহযোগিতা বাড়ানোই হবে ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও নিয়মিত কাজ করছে। খুব শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, এআই টুলসের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজের সময় ও শ্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এতে কর্মকর্তারা অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে বাকি সময় আরো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারবেন। এর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন উপদেষ্টা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন