প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের রাউজানের প্রান্তিক কৃষকেরা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় চরম লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি মণ ধান উৎপাদনে তাঁদের খরচ প্রায় ১ হাজার ৩৬৪ টাকা। কিন্তু খোলাবাজারে মানভেদে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। ফলে, তাঁরা প্রতি মণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লোকসান গুনছেন। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কৃষি উপকরণের মূল্য কমানোসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাউজানের পাহাড়তলী ও মহমুনি এলাকার কয়েকশ কৃষক।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনীতে "প্রদীপ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের" উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কৃষকেরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। তাঁরা বক্তব্যের মাধ্যমে কৃষির বর্তমান উৎপাদন ব্যয়, ধানের বাজারমূল্য এবং সরকারি সংগ্রহব্যবস্থায় বিদ্যমান সমস্যার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কৃষক দীপঙ্কর বড়ুয়া, মো. সোহেল রানা, সংগঠক মো. জুয়েল, কৃষক মো. ফারুক, সত্য বৈদ্য, সান্তুু দেয়সহ আরও অনেকেই।
মানববন্ধনের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার প্রদক্ষিণ করে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের অভিযোগ, সার, বীজ, কীটনাশক, ডিজেল, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদনের প্রায় সব উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে, ধান উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও বাজারে সেই অনুপাতে দাম বাড়েনি। কৃষকেরা জানান, তাঁদের হিসাব অনুযায়ী প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৪ টাকা ১১ পয়সা। সে হিসাবে প্রতি মণে উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৩৬৪ টাকা। অথচ বাজারে ধানের দাম পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৯০০ টাকা। এতে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না তাঁরা। বিশেষ করে মহামুনিসহ এলাকার প্রান্তিক কৃষকেরা এ পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত প্রতি মণ ধানের সংগ্রহমূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছানো এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা; সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করে ৯ নম্বর পাহাড়তলী ইউনিয়নে উন্মুক্ত ধান ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন; চাতাল ও বড় মিল মালিকদের অবৈধ মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; ডিজেল, সার ও বিদ্যুতের মূল্য কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস; কৃষি উপকরণের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কৃষকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং ইউনিয়নভিত্তিক প্রান্তিক কৃষকদের জন্য মাসিক অথবা ত্রৈমাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুম কবির বলেন, ‘কৃষকদের দাবিগুলোর বিষয়ে আমরা জেনেছি। তবে তাঁরা এখনো আমাদের কাছে আসেননি। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে মাঠপর্যায়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে দেখা যায়, অনেক কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কীটনাশক ও সার ব্যবহার করেন। সচেতনতার মাধ্যমে এসব অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব। প্রশিক্ষণে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।’
ধানের সরকারি সংগ্রহমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধানের সংগ্রহমূল্য সরকার নির্ধারণ করে। এবার বোরো মৌসুমে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে সংগ্রহ করা হয়েছে। খাদ্যগুদামের ধারণক্ষমতা ও চাহিদার ভিত্তিতে কৃষি বিভাগকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ইউনিয়নভিত্তিক উৎপাদনের হার বিবেচনায় প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়। একজন কৃষকের কাছ থেকে এক থেকে তিন টন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের ব্যবধান কমাতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কৃষিকাজে আগ্রহ হারাবেন অনেক প্রান্তিক চাষি। এতে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই তাঁদের দাবিগুলো বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন