প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কেরাণীহাট বাজারে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম গ্রেপ্তারকৃতদের এবং হত্যাকাণ্ডের কারণসহ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগর ও হাটহাজারী এলাকা থেকে চারজনকে আটক করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে, যখন করিমকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, মামার মোটরসাইকেল চুরির সন্দেহে পারভেজ তার দলের লোকজন নিয়ে করিমকে হত্যা করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— মোহাম্মদ সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মোহাম্মদ জাবেদ (২৮) এবং মোহাম্মদ আলামিন (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
নিহত মোহাম্মদ করিমের বাড়ি উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামে, তবে তিনি পরিবার নিয়ে হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানায়, করিমের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও মাদক কেনাবেচার অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে।
এসপি মাসুদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের ৮-১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগর আলীর মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ সন্দেহ করেন যে, করিম এই চুরির সঙ্গে জড়িত। করিমের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ থাকায় সন্দেহ আরও বাড়ে। মোটরসাইকেল ফেরত দিতে চাপ দেওয়ার পরও করিম চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেন, ফলে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার রাতে মোহাম্মদ জাবেদ কৌশলে করিমকে কেরাণীহাটে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রস্তুত ছিল। অটোরিকশা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে করিমকে গুলি করা হয়। গুলিতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তারা অটোরিকশা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পারভেজসহ আরও দুই থেকে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, পারভেজ পুলিশের কাছে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ১৮-২০টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। করিমও তাদের দলের সদস্য ছিলেন এবং তারা চুরি, ডাকাতি ও মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।
গ্রেপ্তার চারজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, রাউজানের পশ্চিম গুজরা মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামার থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন