বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৫২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানার পর, ইতিমধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় টাইফুন বাভি সোজা তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে।
এই অবস্থাতে বৃহস্পতিবার দ্বীপটিতে ‘ধ্বংসাত্মক’ বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
টাইফুন বাভির প্রভাবে তৈরি হয়েছে কয়েক মিটার উঁচু ঢেউয়ের। শুক্রবার ও শনিবার এটি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানার পর চীনে প্রবেশ করতে পারে।
চলতি সপ্তাহেই প্রাণঘাতী ঝড়ে চীনের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাইওয়ানের কিলুং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।
সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিডব্লিউএ) আবহাওয়াবিদ জেসন চেং এএফপিকে বলেছেন, ‘তুলনামূলক ধ্বংসাত্মক’ বাতাস তাইওয়ানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দরনগরী কিলুং ও উপকূলীয় ইলান কাউন্টিও।
সোমবার গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে সুপার টাইফুন হিসেবে আঘাত হানার পর, প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় বাভির শক্তি কমে টাইফুনে পরিণত হয়েছে।
সিডব্লিউএ জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮৪ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২২৭ কিলোমিটার।
জেসন চেং জানিয়েছেন, ঘণ্টায় ঝড়ো বাতাসের বিস্তৃতি ৩৮০ কিলোমিটার হওয়ার কারণে ১৯৯৫ সালে ঝড়ের আকার পরিমাপের পদ্ধতি পরিবর্তনের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানার সবচেয়ে বড় টাইফুন।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে উত্তরাঞ্চলের ইলান ও কিলুং এলাকায়। তবে টাইফুনের কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে চলাচলকারী অধিকাংশ ফেরি সার্ভিস স্থগিত করা হয়েছে। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড উপকূল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের তাইতুং কাউন্টি ও অর্কিড দ্বীপসংলগ্ন সমুদ্রে ইতোমধ্যে চার থেকে ছয় মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।
কিলুং বন্দরে মাছ ধরার নৌকার মালিক, ৭৫ বছর বয়সী তুং ওয়ান-ছাই বলেছেন, আসন্ন টাইফুন নিয়ে তিনি ‘কিছুটা উদ্বিগ্ন।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এটি অনেক বড় ও শক্তিশালী।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সরাসরি স্থলভাগে আঘাত না করলেও, এর ঝড়ো বাতাসের বিস্তৃতি অত্যন্ত বড়। বিশেষ করে বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী এটি উত্তর-পশ্চিম দিকের টাইফুনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ডেকে আনবে।’
‘খুবই বিপজ্জনক'
৫৩ বছর বয়সী মাছ ধরার নৌকার অধিনায়ক চ্যাং টিং-হসিন জানিয়েছেন, টাইফুনের কারণে তিনি পরিকল্পনার কয়েক সপ্তাহ আগে বুধবার রাতে বন্দরে ফিরে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। ফিরে না এলে এমনকি এক দিন দেরি হলেও ও টাইফুনের গতিপথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে এবং এটি দ্রুত এগিয়ে এলে, তখন পালানোরও সময় পাওয়া যাবে না।’
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলোতে শুক্রবার স্কুল ও সুপারমার্কেট বন্ধ থাকবে।
জাপানের গণমাধ্যম জানাচ্ছে, বাভির আগমনের আগে আনারস চাষিরা আগেভাগেই ফল সংগ্রহ করে নিয়েছেন। জেলেরা তাদের নৌকা নিরাপদে বেঁধে রেখেছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগটির আঘাত হানার আশঙ্কায় কয়েক ডজন ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।
তাইওয়ান অতিক্রম করার পর সপ্তাহের শেষে চীনের পূর্বাঞ্চলে বাভির আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি সপ্তাহেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এসেছে। সেখানে ঝড়ে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে এবং একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস গত সপ্তাহে জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের জুন মাস। আগামী মাসগুলোতে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ডও হতে পারে।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, ক্রান্তীয় ঝড় আরও শক্তিশালী হয়। একই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতাও বৃদ্ধি পায়, যা ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।
এবারও ফিরে এসেছে প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া এল নিনো। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ায় এবং সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এটি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ জয় নিয়ে কোনও প্রসঙ্গ তুলবেন না। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তিনি আগ্রহী নন, যা হয়তো ট্রাম্পের অপছন্দের কারণ হতে পারে।
বার্ট ডি ওয়েভার রসিকতা করে মন্তব্য করেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন একটি সুনাম রয়েছে যে, তিনি তাঁর অপছন্দের বিষয়গুলোতে মাঝে মাঝে অসহিষ্ণু প্রতিক্রিয়া দেখান। আমার মনে হয়, এই হার তাঁকে যথেষ্ট আঘাত করবে।’
গত মঙ্গলবার, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে। তবে এই ম্যাচটি একটি বিতর্কিত ফিফা সিদ্ধান্তের কারণে যথেষ্ট আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান, যিনি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেছিলেন, এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন। তবে পরে, ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে এবং তাঁকে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে অনুমতি দেয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে বালোগানের শাস্তি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এ তথ্য প্রকাশের পর বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক বিতর্ক দৃশ্যমান হয়।
ডি ওয়েভার জানান, ন্যাটো সম্মেলনে অনেক নেতা তাঁকে বেলজিয়ামের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সবাই এই জয় নিয়েই আলোচনা করছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত পরাজিত পক্ষও এখানে রয়েছে, এবং তারা ন্যাটোর সবচেয়ে বড় অংশীদার।’
ট্রাম্প এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে কথা শুরু করব না। তবে তিনি যদি কিছু বলেন, তখন তাঁর বক্তব্য শুনে প্রতিক্রিয়া জানাব।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বেলজিয়ামের চতুর্থ গোলের পরে, কিছু খেলোয়াড় গোল উদযাপনের সময় ট্রাম্পের পরিচিত নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করেছেন। রেড ডেভিলসের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গোলদাতা রোমেলু লুকাকুর ছবি প্রকাশ করে স্বাক্ষর করা হয়, ‘এটি উল্টে দিন।’
বালোগানকে খেলতে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর, বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে। খেলাধুলার পর, বেলজিয়ামের কিছু খেলোয়াড় জানান, এই বিতর্ক তাদের জয়ের অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি করেছে।
ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে, ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, বালোগানের লাল কার্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ তিনি করেছিলেন। তিনি জানান, ‘আমি জানতামই না যে এই লাল কার্ড আসলে কী।’
পরবর্তীতে, ফিফা তাদের নিয়মের একটি ধারা প্রয়োগ করে বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে।
ফিফার এই সিদ্ধান্তের উপর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সমালোচনা করেছে। এ ঘটনায়, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। তবে ইনফান্তিনো দাবি করেছেন যে, হোয়াইট হাউসের কোনো রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ভ্রমণ ভিসায় ভারতে যাত্রী পারাপার শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুই বছর পর প্রথম একজন বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ভারতে যান।
সরেজমিন দেখা যায়, বন্দর দিয়ে ভারতীয় যাত্রীরা বেশি আসছেন। তারা ভ্রমণ ভিসা নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশি যাত্রী যারা যাচ্ছেন তারা যাচ্ছেন চিকিৎসা ভিসা নিয়ে।
একাধিক সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে। ভারত ভ্রমণ ভিসা দিতে শুরু করায় বাংলাদেশি যাত্রী পারাপার আরো বাড়বে। দুই বছর পর দেওয়া ভ্রমণ ভিসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা ফুলবাড়িয়ার এক যাত্রী প্রথম ভারতে যান। তিনি ২৮ জুন আবেদন করে ৮ জুলাই ভিসা পান। তিনি ছয় মাসের ভিসা পেয়েছেন।
আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের এসআই মো. আব্দুর রহিম জানান, আজ সকালে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একজন বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসায় গেছেন। ৮ তারিখ থেকে ভিসা পাওয়ায় যাত্রী আরো বাড়বে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল ভারত। প্রায় দুই বছরের মাথায় ভ্রমণ ভিসা চালু করে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার ভিসা সেন্টার থেকে ২৮ জুন একযোগে ভিসার কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি জুলাই মাসের ৮ তারিখ থেকে যাত্রীরা ভিসা পাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবলের প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ৯০ মিনিটের হয়। এটি এতটাই পরিচিত যে বেশিরভাগ দর্শকই বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেন। তবে এই সময়সীমা কীভাবে নির্ধারিত হলো, তার পেছনে রয়েছে প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস, ফুটবলের নিয়মের বিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা।
আধুনিক ফুটবলের শুরুর দিকে ম্যাচের নির্দিষ্ট সময় ছিল না। বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রতিযোগিতায় ৬০, ১০০ কিংবা ১২০ মিনিট পর্যন্তও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো। ফলে একক কোনো মানদণ্ড ছিল না।
১৮৬৬ সালে লন্ডন ও শেফিল্ডের একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ ৯০ মিনিট ধরে অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১৮৭৭ সালে দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) এবং শেফিল্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম একীভূত হওয়ার পর ৪৫ মিনিটের দুটি অর্ধ মিলিয়ে ৯০ মিনিটকে ম্যাচের আনুষ্ঠানিক সময় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ফিফা (FIFA) আন্তর্জাতিক ফুটবলেও একই নিয়ম অনুসরণ করে, যা আজও বহাল রয়েছে।
ম্যাচকে দুই দলের জন্য সমানভাবে ভাগ করার উদ্দেশ্যে ৪৫ মিনিটের দুটি অর্ধ নির্ধারণ করা হয়। মাঝখানে ১৫ মিনিটের বিরতি রাখা হয়, যাতে খেলোয়াড়রা বিশ্রাম নিতে পারেন এবং কোচরা কৌশল নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পান।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ৯০ মিনিট
স্পোর্টস সায়েন্স বলছে, উচ্চমাত্রার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ৯০ মিনিট এমন একটি সময়সীমা, যেখানে খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন। এর বেশি সময় ধরে একই তীব্রতায় খেললে ক্লান্তি বাড়ে, পেশির কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং চোটের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
একজন পেশাদার ফুটবলার একটি ম্যাচে গড়ে ১০ থেকে ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়ান। খেলোয়াড়ের পজিশন ও ম্যাচের গতির ওপর নির্ভর করে এই দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত সময় কেন যোগ করা হয়?
ম্যাচ চলাকালে ইনজুরি, খেলোয়াড় বদলি, VAR পর্যালোচনা কিংবা সময় নষ্টের কারণে খেলা বন্ধ থাকলে সেই সময় পূরণ করতে রেফারি স্টপেজ টাইম যোগ করেন। ফলে কার্যত ৯০ মিনিটের খেলাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।
নকআউট পর্বে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোর সমান থাকলে আরও ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময় (এক্সট্রা টাইম) খেলা হয়। এরপরও ফল না এলে টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। তবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের বিধান নেই।
অনেকের ধারণা, টেলিভিশন সম্প্রচারের সুবিধার জন্য ম্যাচ ৯০ মিনিটের করা হয়েছে। বাস্তবে বিষয়টি নয়। ৯০ মিনিটের নিয়ম চালু হয় টেলিভিশনের যুগের বহু আগে। তবে বর্তমানে প্রায় দুই ঘণ্টার সম্প্রচার কাঠামোর সঙ্গে এই সময়সীমা ভালোভাবেই মানিয়ে যায়।
সূত্র: দ্য বল বিজনেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছেন। এতে সমাজে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত শিশু-কিশোররাও দেশের মূল স্রোতোধারার সাথে মিশে যেতে সক্ষম হবে। এজন্য তিনি দেশের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত প্রকৃত সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী ৫০ বছরের জন্য একটি দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) তৈরি করার কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ১০ তলা বিশিষ্ট ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)-এর অ্যাকাডেমিক কাম ডরমেটরি ভবন’-এর নির্মাণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, এই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের অপরাধী হিসেবে নয়, বরং সংশোধনের জন্য আনা হয়। শিশুদেরকে যেন চমৎকার এবং উপযুক্ত পরিবেশের মধ্য থেকে নিজেদের ভুলত্রুটি সংশোধন করার সুযোগ পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে সমাজের সুস্থ ও স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে ফিরে আসতে পারে, সেজন্য তিনি কেন্দ্রের সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
বর্তমানে কেন্দ্রটিতে প্রায় ৭৬০ জন শিশু ও কিশোর অবস্থান করছে। তাদেরকে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র পরিসরে কৃষি কাজও শেখানো হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজের কর্মক্ষম জনবল হিসেবে অবদান রাখতে সক্ষম হতে পারে।
পরিদর্শন ও পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, শিশুদের নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিশ্চিতকরণে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি নির্মাণাধীন ভবনের নকশা পর্যালোচনাকালে প্রতিবন্ধী শিশুদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ‘র্যাম্প’ নির্মাণ, নতুন ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং যেকোনো ধরনের জরুরি অগ্নি-দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করার নির্দেশনা দেন। এছাড়া তিনি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত খেলার মাঠ তৈরি এবং শিশুদের আনন্দের মাধ্যমে সময় কাটানোর জন্য বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের তাগিদ দেন। তিনি একই সাথে শিশুদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বারোপ করেন।
শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিয়ে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন নির্দেশ দেন যে, শিশুদের সামনে কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (আনসার সদস্যদের) বা ভীতি ছড়াতে পারে এমন জিনিসপত্র রাখা না হয়। তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রে অবস্থানরত শিশুরা যাতে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রকে নিকটস্থ হাসপাতালের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করারসহ বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নতির লক্ষ্যে ডাক্তারদের সম্মানি বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। এছাড়া, তিনি নির্দেশ দেন যে, শিশুরা যাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট সমৃদ্ধ সুষম খাবার পায়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র প্রধানকে নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে, শিশুদের জন্য সরকার হতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা যেন বর্তমান বাজারের মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সভায় উপস্থিত সমাজকল্যাণ সচিবকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
উক্ত পর্যালোচনা সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুবসহ স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ