প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপানে সম্প্রতি মানুষের ওপর ভাল্লুকের হামলার ঘটনা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রাণহানি রোধ করতে, দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন এবং রোবট নেকড়ের মতো অভিনব প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত জাপানে ভাল্লুকের হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি। মূলত গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা কমে যাওয়া, কৃষিজমি সংকুচিত হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বনে খাবার কমে যাওয়ায় ভাল্লুক লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৫০ হাজার বার ভাল্লুক দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ভাল্লুক নিধনের উদ্যোগ নিলেও বিশেষজ্ঞরা প্রাণঘাতী নয় এমন উপায়গুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। লোকালয় ও বনের সীমানায় এআই-যুক্ত ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে, যা ভাল্লুকের গতিবিধি শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সতর্ক করছে। হোক্কাইডোর মতো এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে ভাল্লুক তাড়ানোর কাজ চলছে।
কৃষিজমি ও লোকালয় রক্ষায় সৌরচালিত ‘মনস্টার উলফ’ বা নেকড়ের রোবটও বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪ হাজার ডলার দামের এই রোবটটি বিলুপ্ত জাপানি নেকড়ের মতো ভয়ংকর শব্দ করে ভাল্লুককে দূরে রাখে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে ড্যানিয়েল কোকা নামের এক প্রকৌশলী ‘কুমাম্যাপ’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ ব্যবহারকারী ভাল্লুকের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে পারছেন।
উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিরও সাহায্য নিচ্ছে জাপান। ফিনল্যান্ড থেকে আনা বিশেষ জাতের ‘কারেলিয়ান বিয়ার ডগ’ ব্যবহার করে ভাল্লুকদের কোনো ক্ষতি না করেই লোকালয় থেকে নিরাপদে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তির পাশাপাশি এই কুকুরের ব্যবহার সংঘাত কমাতে দারুণ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন