০২:১৩ পি.এম
গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে গত ছয় মাসে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, এসব হতাহতের বেশিরভাগই ড্রোন হামলার শিকার। পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ এবং ৩ কোটির বেশি মানুষ জরুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ করদোফান, দারফুর এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র। সাম্প্রতিক সময়ে হতাহতদের প্রায় ৬০ শতাংশই ড্রোন হামলা কারণে হয়েছে বলে জানাইছে ইউনিসেফ। হামলায় স্কুল, বাজার, জ্বালানি ডিপো ও পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদকে ঘিরে সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই প্রস্তাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোকে আরও সহায়তা এবং সংঘাতে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউনিসেফের সুদান প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, শিশুরা অব্যাহত সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার ভয়াবহ চক্রে আটকে পড়েছে। তিনি সংঘাতরত সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো রক্ষা এবং বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
এদিকে পৃথক একটি ঘটনায়, সুদানের মিসর সীমান্তবর্তী ওয়াদি হালফা এলাকায় পরিত্যক্ত একটি স্বর্ণখনির অংশ ধসে অন্তত ১৫ অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে খনিটি বন্ধ থাকলেও শ্রমিকরা সেখানে পুনরায় খননকাজ শুরু করেছিলেন।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন