প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনীর পুলিশ বিশেষ অভিযানে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ১৯৫ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এ পর্যন্ত থানায় ২৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বিভিন্ন ঘটনায়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মলম পার্টির সদস্য, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন, এমনটি জানিয়েছেন ফেনী মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ফেনী মডেল থানা এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা শেষে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ফেনী মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে শহরের স্টারলাইন বাস কাউন্টার ও আশপাশের এলাকা থেকে মলম পার্টির সদস্য লিটন মিয়া প্রকাশ সুমনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার দক্ষিণ এলাইচ ডোমবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, মলম পার্টির সদস্যরা স্টারলাইন বাসে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের কৌশলে চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করে সর্বস্ব নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যায়। গ্রেপ্তার লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এছাড়া মহিপাল থেকে লেমুয়া যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত রিকশায় (অটোরিকশা) নকল সোনার বার দেখিয়ে চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত অভিযানে ফেনী রেলস্টেশন ব্রাহ্মণপুকুর পাড় ও সরকারি কলেজের পেছনের এলাকার সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-কুমিল্লার লাকসামের মো. শুকুর প্রকাশ কানা শুক্কুর (২৬), ফেনী পৌরসভার বিরিঞ্চি এলাকার মো. আব্দুল মমিন (৪৬) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির কাউছার হোসেন আশিক (২৩)। তাদের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় চুরি ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরগামী একটি কাভার্ডভ্যান থেকে এক প্যাকেট অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্তে জাহাঙ্গীর আলম (৪১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী এবং চোর-ডাকাত চক্রের সদস্যসহ মোট ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদক, চুরি-ডাকাতিসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। শিগগিরই মাদক ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে টাস্কফোর্স কাজ করবে বলে জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন