০৫:০৫ পি.এম
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জনপ্রিয় মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নাটালিয়া ভিয়ালবার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাটি ঘটেছে বাথরুমে রাখা একটি ট্রাভেল স্যুটকেসের ভেতর থেকে, যেটি উদ্ধার হওয়ার পরেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাথিউ অ্যাশলে ফস্টার-স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ম্যাথিউ অ্যাশলে ফস্টার-স্মিথ ছদ্মনাম ব্যবহার করে জাল পাসপোর্টের অধীনে কলম্বিয়া ছেড়ে ইকুয়েডরে পালিয়ে যান। পরে, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর এবং যুক্তরাজ্যের ডরসেট পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ২৬ জুন ইকুয়েডরের কিতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার
গ্রেপ্তারের পর কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, নাটালিয়া যখন একা ছিলেন, তখন অভিযুক্ত ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনায় পরেও মরদেহটি ব্যাগে ভরে বাথরুমে লুকিয়ে রাখা হয়।
তদন্তকারীদের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তিটিকে ফ্ল্যাট থেকে বিছানার চাদর ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
তদন্ত সম্পর্কিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নাটালিয়া ভিয়ালবা গত ৩ জুন থেকে ওই অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করছিলেন এবং ২১ জুনের মধ্যে তাঁর ফ্ল্যাট ছাড়ার কথা ছিল। তবে ২২ জুন পরিচ্ছন্নতার জন্য অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করা এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাথরুমে থাকা স্যুটকেস খুলে নাটালিয়ার মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
গ্রেপ্তারের এক দিন আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাথিউ অ্যাশলে ফস্টার-স্মিথ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইরিশ বারের বড় স্ক্রিনে ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ দেখছিলাম। ফলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি শপিং সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে আইসক্রিম কিনেছি। পরে বাকি ম্যাচগুলো দেখার জন্য আবার ফিরে এসেছি।’
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তালাক বন্ধ: চিফ হুইপ
তবে ব্রিটিশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে এক ব্যক্তিকে উত্ত্যক্ত ও হয়রানির অভিযোগে তিনি দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন।
ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা হত্যার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানার জন্য বিভিন্ন আলামত ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করছে কলম্বিয়ার তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন