প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ফাঁসির দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে শুরু হয়ে এই বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে, শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে থামে। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন যে, গহনা ও টাকা লুট করার উদ্দেশ্যে বাসার ভাড়াটিয়া সেজে লাইলী আক্তারের নেতৃত্বে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করা হয়েছে।
তারা তাদের দাবি জানান যে, ঘুমন্ত অবস্থায় ফরিদাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর তাঁর মরদেহকে কুপিয়ে খণ্ডিত করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত লাইলী আক্তারসহ সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তাঁরা অভিযোগ করেন যে, বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা বারবার অপরাধ করার সুযোগ পাচ্ছে।
এছাড়া বক্তারা দাবি করেন যে, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে একটি শিশু হত্যার ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার হলেও কয়েক বছরের মধ্যে তাঁরা জামিন নিয়ে মুক্তি পেয়ে যান।
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যদি ওই মামলায় যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হত, তাহলে পরবর্তীতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটত না।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার দাবি, আমার স্ত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই। এমন সাজা দিতে হবে, যা ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য একটি বার্তা হয়ে থাকে।’
প্রতিবাদ সভায় নিহতের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তার, কাজী নাসির উদ্দিন, সিয়াম আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
পরে শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে ফরিদার মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন