প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভাগ্য ফেরাতে ভিটামাটি বিক্রি করা এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১১ জন যুবক। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন যে চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি তাদের পরিবার। রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেছে এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবনের আলো। প্রিয় সন্তান ও স্বজনদের হারিয়ে আত্রাই উপজেলার প্রতিটি শোকসন্তপ্ত পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আত্রাইয়ের গন্ডগোহালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় শুধুই বিষাদের ছায়া। এই এক গ্রাম থেকেই পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন চার তরুণ—মোহন, সুমন, রেজোয়ান ও ফারুক। অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যেই ছাই হয়ে গেছে তাদের সব আশা ও আকাঙ্ক্ষা।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায় মোহন ও সুমনের বাড়িতে। একই দুর্ঘটনায় দুই ছেলেকে হারিয়ে তাদের মা-বাবা প্রায় বাক্রুদ্ধ। এখন তারা দেশে ফিরে নতুন ঘর তুলবেন—এই আশায় দুই ভাই রওনা হওয়ার আগেই বাড়ির সামনে নতুন ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নতুন ঘরে আর ফেরা হলো না তাদের। অশ্রুসজল চোখে ময়না বিবি শুধুই একটাই আকুতি বলেন, ‘আমার ছেলেদের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’
একই গ্রামের নিহত রেজোয়ানের মা কারিমা বেগম বাড়ির সামনে বিলাপ করছিলেন, পাশে বসে কাঁদছিলেন তাঁর বোন। এবার বাড়ি ফিরে রেজোয়ানের বিয়ে করার কথা ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কেবলই স্মৃতি হয়ে গেছে।
স্থানীয় গন্ডগোহালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন আহমেদ বলেন, একই গ্রামের চারজন উদীয়মান যুবককে এভাবে হারিয়ে পুরো গ্রাম আজ স্তব্ধ। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, যেন দ্রুততম সময়ে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ও শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলোর এখন একটাই চাওয়া—অন্তত শেষবারের জন্য যেন প্রিয় মানুষগুলোর মুখ দেশে আসে।
মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনরুজ্জামান বলেন, আমরা বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন