প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের রায় ঘোষণা হবে সোমবার (২৪ আগস্ট)। এ মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল শুনানি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শেষ করার পর বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চে এ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন), আপিল এবং জেল আপিলের শুনানি গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ওই বেঞ্চে এ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির উপস্থিত ছিলেন। আসামি পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, মোহাম্মদ শিশির মনির এবং অন্যান্য আইনজীবীরা।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল এবং বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। গত ১৪ জুন থেকে এ বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৮ জুলাই চাঞ্চল্যকর ওই হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল।
নথিপত্রের সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দগ্ধ করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।
এ অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যান্য আসামিরা হলেন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদদিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম এবং মহি উদ্দিন শাকিল।
নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্সের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলাটি হওয়ায় ডেথ রেফারেন্সের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। এসবের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে সোমবার মামলাটির রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের দিন ধার্য হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নিম্ন আদালতের দ্বারা দেওয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি উচ্চ আদালতেও নিশ্চিত থাকবে এবং তাদের পরিবার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ন্যায়বিচার পাবে।
মেয়ের বিচারে আদালতের প্রতি আস্থা জানানোর পাশাপাশি বেঁচে থাকা অন্যান্য সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদেরকে প্রভাবশালী মহলের নানা হুমকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে এবং মামলার বাদী-সাক্ষী হিসেবে পরিবারের সদস্যরা জড়িত থাকার কারণে প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। অপরাধীদের সহযোগীরা যেকোনও সময় প্রতিশোধ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় ছেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত এবং সরকারের কাছে স্থায়ী নিরাপত্তা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন