প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উজ্জ্বল। ব্রহ্মপুত্র নদটি পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে পরিবেশ হয়ে উঠেছে নীরব। এর মধ্যেই লালনের গান ভেসে আসছিল।
নদপারের সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন নিজেদের যানবাহন থামিয়ে উঁকি মেরে দেখছিলেন, কারা গান গাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা ছিল ‘পূর্ণিমার রাতে পরমের সাথে’। ময়মনসিংহ বাউল সমিতির উদ্যোগে প্রতি পূর্ণিমার রাতে নগরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই আসর বসে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে ছিল শরৎকালের দ্বিতীয় পূর্ণিমা। এই পূর্ণিমায় ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানটি।
ভাবগম্ভীর পরিবেশে অংশগ্রহণ করেন ময়মনসিংহ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নবীন ও খ্যাতিমান বাউলশিল্পীরা। ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই আয়োজন উপভোগ করেন।
রবিবার রাতের এই আয়োজনটি লালন শাহর তিরোধান উপলক্ষে তার গান দিয়ে সাজানো হয়েছিল। হেমন্তের স্নিগ্ধ পূর্ণিমার আলোয় ভাসতে ভাসতে দর্শক-শ্রোতারা রাতভর আধ্যাত্মিক সুরের সাগরে ডুব দেন।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন আহাদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি এ পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। গানের সুর শুনে দেখতে আসি। খুবই সুন্দর আয়োজন। মন চাইছে সারা রাত ধরে গান শুনি।’
আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে সাজানো হয়েছিল। প্রথম পর্বে মাগরিবের নামাজের পর বিশ্বশান্তি ও সবার মঙ্গল কামনায় মিলাদ ও দরুদ শরিফ পাঠ করা হয়। মিলাদ শরিফ পরিচালনা করেন পীর খোরশেদ আলম দয়াল।
এশার নামাজের পর শুরু হয় উৎসবের মূল পর্ব। ভক্তিগীতি, লালনগীতি, সুফি এবং বাউল গানের জমজমাট আসর শুরু হয়। ময়মনসিংহ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাউলশিল্পীরা তাদের কণ্ঠের জাদুতে দর্শক-শ্রোতাদের মোহাবিষ্ট রাখেন।
গান পরিবেশন করেন মিজান বাউলা, জয়িতা অর্পা, চন্দন শাহ্, বাউল সোহাগী সরকার, শাহনাজ সাথী, বাউল চান মিয়া, বাউল মালেকা খাতুন, বাউল সাবিনা সরকার, বাউল সাজন মালা, বাউল নুর আলম সরকার, বাউল মাফিজুল সরকার, রফিক চিশতি, বাউল রাজ্জাক সরকার, বাউল রুমা সরকার, বাউল এরশাদ ও বাউল আবদুল মজিদ।
সৃষ্টি ও স্রষ্টার সম্পর্ক, জীবনের দর্শন এবং পরমের খোঁজ নিয়ে রচিত কালজয়ী গানগুলো যখন শিল্পীদের একতারা ও দোতারার সুরে বেজে উঠছিল, তখন উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে অপার্থিব ভাবাবেগ সৃষ্টি হচ্ছিল। মুক্ত আকাশের নিচে চাঁদের আলোয় সুরের জাদু তাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখছিল। সেই সাথে মনোমুগ্ধকর বাদন সবাইকে উৎফুল্ল করে।
অনুষ্ঠানে হারমোনিয়ামে ছিলেন কাদির; বাঁশিতে আজিজুল; ট্রাম্পেটে হামিদ ভাণ্ডারী; রবাবে হাবিব; করতালে মোশাররফ; খমকে মিজান এবং ঢোলে রাজকুমার দাস, বিশাল ও শরীফ।
ময়মনসিংহ বাউল সমিতির সহসভাপতি কাজল দেওয়ান জানান, ‘যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করা এবং আধ্যাত্মিক চেতনার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’
ময়মনসিংহ বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের এই বিপুল ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণাকে পাথেয় করে আগামীতেও প্রত্যেক পূর্ণিমা তিথিতে এই আয়োজন চলবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন