প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দপ্তর দেশের ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিদেশের কিছু ‘উদ্বেগজনক’ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের শিক্ষা, অর্থায়ন ও গবেষণার সহযোগিতা দ্রুত পর্যালোচনা করার জন্য বলা হয়েছে।
যুদ্ধ দপ্তর জানিয়েছে, ২০১৯ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের ১২৮৬ ধারায় চিহ্নিত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা এই পর্যালোচনার আওতায় পড়বে। নতুন নামে পরিচালিত কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলোর সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক যুদ্ধ দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারির নেতৃত্বে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত গবেষণা থেকে অনুমতি ছাড়া প্রযুক্তি অন্য দেশে চলে যাওয়া, মেধাস্বত্ব চুরি ও শত্রুপক্ষের হাতে গবেষণার অপব্যবহার ঠেকানো।
গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক যুদ্ধ দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করা শিক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দপ্তর কোনো ছাড় দেবে না। তিনি জানান, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মার্কিন করদাতাদের অর্থ পায়, তাদের গবেষণার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে। বাধ্যতামূলক এই নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। যুদ্ধ দপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি সহযোগিতায় কোথাও দুর্বলতা বা নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে কিনা, তা চিহ্নিত করাই এই পর্যালোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
নোটিশ পাওয়া ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিহ্নিত সব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করতে হবে। এসব সহযোগিতার কারণে সংবেদনশীল বা রপ্তানি-নিয়ন্ত্রিত গবেষণা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে কি না, তা যাচাই করতে হবে। পর্যালোচনায় কোনো সহযোগিতা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে তা বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অতএব ‘কঠোর ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে তাদের তদন্তের ফলাফল এবং এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত তথ্য সরাসরি যুদ্ধ দপ্তরে জমা দিতে হবে।
দপ্তর আরো জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণা তহবিল পাওয়ার যোগ্যতা ধরে রাখতে এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক যুদ্ধ দপ্তরের সহকারী সচিব জোসেফ জুয়েল বলেন, যুদ্ধ দপ্তরের বিভিন্ন গবেষণা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই বিদেশি অপব্যবহার থেকে এসব গবেষণায় মার্কিন সরকারের বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখা দপ্তরের দায়িত্ব। যুদ্ধ দপ্তরের ভাষ্য, এই নিরীক্ষার মাধ্যমে নতুন ধরনের হুমকি সম্পর্কে আগেভাগে ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিপক্ষের পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
দপ্তর মনে করে, গবেষণার নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হলে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব নেতৃত্বও ধারাবাহিক রাখা সম্ভব হবে। যুদ্ধ দপ্তর জানিয়েছে, গবেষণার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির সঙ্গেও কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হাউস ও সিনেটের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক কমিটি, হাউস ও সিনেটের বরাদ্দবিষয়ক কমিটি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টিবিষয়ক হাউসের বিশেষ কমিটি। দপ্তর জানায়, এসব কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন একটি নিরাপদ গবেষণা পরিবেশ তৈরি করা হবে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও প্রযুক্তি বিদেশি অপব্যবহার থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন