প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : সাতক্ষীরায় ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরাম’ আত্মপ্রকাশ করেছে, যা জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সরকারি খাসজমিতে স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করার দাবিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
আজ শনিবার দুপুরে শহরের মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্টের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ফোরামের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ঘোষণাপত্র’ উপস্থাপন করে ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
নবগঠিত ফোরাম একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর খাদ্য ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ ও তরুণদের জন্য শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সেবার সুযোগ এবং শোভন আয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে।
ফোরামের সভাপতি ফাতেমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ফোরামের সদস্যসচিব সোনিয়া খাতুন।
বেসরকারি সংগঠন স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্তের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় দুর্যোগ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা গওহার নঈম ওয়ারা, পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড নেটওয়ার্ক (প্রান)-এর প্রধান নির্বাহী নুরুল আলম মশাররফ এবং সিইপিআর-এর প্রধান নির্বাহী গোরাঙ্গ নন্দীসহ নাগরিক সমাজ, অধিকারকর্মী, ও জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ।
ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, বন্যা, জলাবদ্ধতা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে ঘরবাড়ি, জমি ও জীবিকা হারিয়ে বহু পরিবার সাতক্ষীরা শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে আনুমানিক ৭ হাজার ৫৭৩টি বাস্তুচ্যুত পরিবার বসবাস করছে। তাদের বাস্তুচ্যুতি দীর্ঘস্থায়ী মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংকটে রূপ নিয়েছে। ঘোষণাপত্রে স্থায়ী আবাসন ও শোভন জীবিকার পাশাপাশি জরুরি খাদ্যসহায়তা, ন্যায্যমূল্যের খাদ্য ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি, শিশু ও মাতৃত্বকালীন পুষ্টিসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, নগর ও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় বাস্তুচ্যুত মানুষের স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণ, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ, বসতির মানোন্নয়ন ও আইনি নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন, শিশুদের শিক্ষা, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত এবং ফোরামের সভাপতি ফাতেমা বেগম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন