প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল আমিন জুয়েলকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শহরের মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা জিয়াউল আমিন জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে তাকে সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউল আমিন জুয়েল নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
এদিকে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর বা শহরের কোনো স্থানের নয়; এগুলো অন্য এলাকার অথবা পূর্বের কোনো কর্মসূচির ভিডিও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভনের ফেসবুক আইডি থেকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন আফ্রিদীর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা লিমন আল স্বাধীনের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং খাবার বিতরণের ছবি ও ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে।
এ ছাড়া দেয়ালে পোস্টার লাগানো, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব কর্মসূচি কখন ও কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা পোস্টগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জিয়াউল আমিন জুয়েলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জুয়েল। সরাইল ও সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”
১৫ আগস্ট উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর বা শহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি দাবি করে ওসি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো অন্য এলাকার অথবা আগের কর্মসূচির। এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সদর উপজেলা ও শহরের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন