প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ এল নিনো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি অংশ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, যখন বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সংকট চরম আকার ধারণ করেছে, তখনই একটি নজিরবিহীন এল নিনো আমাদের সামনে অতিদমনীয় রূপ নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত এক হাজার বছরের মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সর্বগ্রাসী এল নিনো।
এই প্রলয়ংকরী পরিস্থিতির সমন্বিত প্রভাবে, ২০২৭ সাল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত বছর হিসেবে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগরের উপকণ্ঠ থেকে ইউরোপ, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় এর ভয়াবহ প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক তীব্র দাবানল, ভারতে মৌসুমি বায়ুর দুর্বলতা, এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মারাত্মক খরা; সবকিছুতেই এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম সতর্ক করে জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষকে তীব্র ক্ষুধার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যায় এবং বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ তাপ সঞ্চারিত হয়। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এল নিনোর কেন্দ্রস্থলে সমুদ্রের তাপমাত্রা ৩০ বছরের গড়ের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। জলবায়ু বিশ্লেষক জেকে হাউসফাদার জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে এর মাত্রা গড়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। প্রবাল, গাছের বলয় ও ঐতিহাসিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত এক হাজার বছরে এতটা শক্তিশালী তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের তৈরি বিশ্ব উষ্ণায়ন এল নিনোকে আরও শক্তিশালী করছে, যা জলবায়ু সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেছেন, বৈজ্ঞানিক তথ্যে কোনো সন্দেহ নেই; পৃথিবী এখন এক অজানা এবং অতি-বিপজ্জনক আবহাওয়ার অঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখন মূল লড়াই হলো জলবায়ু ঝুঁকি এবং মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে।
অন্যদিকে, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রধান সেলেস্তে সাওলো জানিয়েছেন, তাদের ৫০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে এতো বড় আকারের জরুরি প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। এই দুর্যোগের হাত থেকে জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে আর এক মুহূর্তও সময় নেই। আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ার করে বলেছেন, এল নিনোর প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়বে, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে ফেলবে।
সূত্র: গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন