প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে কলেজ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে ডা. রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ চারটি দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলাকারী ও দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা এবং মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা; দেশের প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘আর্মড আনসার’ বা সমমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করা; শয্যা সংখ্যার সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশের বেশি অতিরিক্ত রোগী ভর্তি না করা এবং প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি ছাড়া হাসপাতালের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি বন্ধ করা; হাসপাতালের রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন বা দর্শনার্থীর অবস্থান নিষিদ্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক প্রতিনিধি ডা. অর্পণ দত্ত, ডা. রিদোয়ান উদ্দিন, ডা. এ কে এম আহসান জারিফ এবং ডা. মেহেরুপ হোসেন পৃথিবী।
চিকিৎসক প্রতিনিধি ডা. রিদোয়ান উদ্দিন জানান, হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলতে থাকবে।
এদিকে আকস্মিক কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সেবা বন্ধ রাখার কারণে চিকিৎসা নিতে এসে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের সপ্তম তলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল মালেক (৫০) মারা যান। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মো. রাজিবুল ইসলামের ছেলে। অ্যাজমার জটিলতা ও তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের দাবি, সর্বাত্মক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরও রোগীর মৃত্যু হলে স্বজন ও তাদের সঙ্গে থাকা বহিরাগত ব্যক্তিরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান। এতে ইন্টার্ন ও মিড-লেভেলের অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি চিকিৎসকদের।
হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ চারজন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ রোগীর আহত ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছয়জন স্বজনকে হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন