প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের ট্যাংকার সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে ভিএলসিসি (অতি বৃহৎ) অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের দৈনিক ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে গড়ে পাঁচ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছে গেছে।
যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও উচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অনেক জাহাজ মালিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চীনে তেল পরিবহনে রাজি হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীন রুটে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের আয় গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ চালনা কোম্পানি সিনোকরের মালিকানাধীন ‘মঙ্গোলিয়া প্রসপারিটি’ নামে একটি ভিএলসিসি ট্যাংকার সম্প্রতি পারস্য উপসাগরের গোপন বন্দর থেকে পূর্ব এশিয়ায় তেল পরিবহনের জন্য প্রায় ৩১ মিলিয়ন ডলারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
গত এপ্রিলে মার্কিন-ইসরায়েলি ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল, বর্তমানে সেসব চুক্তির কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। কারণ, হরমুজ প্রণালিতে দুই পক্ষেই নিজেদের নৌ-অবরোধ জোরদার করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বহুজাতিক সংস্থা জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য মতে, প্রণালি অতিক্রম করার সময় ইরানি হামলায় সম্প্রতি অন্তত একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ওমান উপসাগরে ইরানি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল একটি পানামা পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনী গুলি চালিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন দাবি করে, প্রণালিটি এখনও উন্মুক্ত রয়েছে এবং গণমাধ্যমের খবরের চেয়ে অনেক বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এটি অতিক্রম করছে। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের জাহাজের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
এই চরম অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি পরিবহনের সংকট জাহাজ ব্যবসার ক্ষেত্রে অভাবনীয় মুনাফার সুযোগ তৈরি করছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ক্রুড অয়েল ফ্রেইট ফিউচার্সে বিনিয়োগের বিশেষ ফান্ড ‘ব্রেকওয়েভ ট্যাংকার শিপিং ইটিএফ’-এর শেয়ারমূল্য চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার দুই শত শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটনার জন্য শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনার দিকেই নজর দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে পুনরায় জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছেন, যার কারণে বাব আল-মানদেবে বিকল্প পথ ধরে চলাচলও ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিস্থিতির মোকাবেলায় সৌদি আরব সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে তেল পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। ভিএলসিসি ট্যাংকারে তেল পরিবহনের জন্য আফ্রিকার কেপ অফ গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। এই দীর্ঘতম রুটের কারণে বাজারে খালি জাহাজের সংকট তীব্র হয়েছে ও পরিবহনের ভাড়া লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অবস্থান বজায় রাখতে বাণিজ্যিক ঝুঁকি নেওয়ার নীতি অবলম্বন করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটি সম্প্রতি দৈনিক রেকর্ড ৪১ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের সংকটকালে বহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যাংকার গোপনে ট্রান্সপন্ডার সিগন্যাল বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন