প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিমার নামে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেয়া ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির দম কমিশনের (দুদক) আট মামলার তদন্ত প্রায় শেষ হওয়ার পথে। তদন্তে উঠে এসেছে ১৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য, যেখানে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের নামও দৃশ্যমান。
ফারইস্টের বর্তমান কর্তৃপক্ষের দাবি, নজরুল ইসলাম সিন্ডিকেট লুটপাটের মাধ্যমে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সরিয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) মতে, অপরাধীদের শাস্তির পাশাপাশি গ্রাহকের পাওনা অর্থ দ্রুত ফেরত দেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
দুদকের হাতে ধরা পড়েন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, যিনি পাসপোর্ট নিতে এসেছিলেন। তিনি গ্রাহকের ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় গত বছরের অক্টোবরে গ্রেফতার হন।
এছাড়াও, লুটপাটের মাত্রা ২০৭ কোটি টাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট জমি কিনা এবং অন্যান্য উপায়ে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা লুটপাট করেছে। নজরুল ইসলাম ছাড়াও গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক এমডি হেমায়েত উল্লাহ। কিন্তু অন্যান্য অভিযুক্তরা এখনও পলাতক রয়েছেন।
দুদকের ৮ মামলার তদন্তের বেশিরভাগই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারে দুদক।
দুদকের তথ্য থেকেই জানা যায়, ফারইস্ট থেকে লুটপাট করে সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম অন্তত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
এমন প্রতিবেদনের মাঝে, ৪০ লাখ গ্রাহকের এই ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষসহ গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ বলেন, “ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধানে দুদক আটটি মামলা করেছে। মামলাগুলোর তদন্ত প্রায় সম্পন্ন।”
দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম বলেন, “রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যেহেতু এসব অপকর্ম সংঘটিত হয়েছিল, এজন্য অনুসন্ধান এবং মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। দ্রুত সময়ে এসব মামলার অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পূর্ণ হবে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট দাখিল করতে পারবো।”
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন জানান, “২০২১ সাল পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি এই কোম্পনি থেকে আত্মসাৎ হয়েছে, যেখানে তৎকালীন বোর্ডের দু-তিনজন ও ম্যানেজমেন্টের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছিল।”
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির হেড অব ওভারসিজ ডিভিশন রোকেয়া বেগম জানান, “যারা এখনো গ্রেফতার হননি তাদের গ্রেফতার করা ও যারা ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন তাদের সম্পদ জব্দের মাধ্যমে এবং বিদেশে পাচার করা টাকা এনে কোম্পানিকে ফিরিয়ে দিলেন, তাহলে গ্রাহক উপকৃত হবে।”
এছাড়া, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও তাগিদ দিয়েছে টিআইবি। তাদের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ফারইস্টের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের সকলকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন