প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রভাবে ফসল নষ্ট হয়ে পূর্ব উগান্ডার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কারামোজা অঞ্চলে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খরার কারণে হাজার হাজার পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে, ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
উগান্ডার প্রধানমন্ত্রী রবিনাহ নাব্বানজা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কার্যালয় সোমবার মন্ত্রিসভার অনুমোদন চাইবে। যদি অনুমোদন মিলে, তবে আরও খাদ্যশস্য কেনা হবে এবং দুর্গত এলাকায় তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।
স্থানীয় কৃষকদের বিবেচনায়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ খুবই সামান্য, যা সাধারণত বপন মৌসুমের শুরুতে ঘটে। বৃষ্টির অভাবে ফলনশীল শস্য যেমন ভুট্টা, জোয়ার ও সয়াবিনের বিস্তীর্ণ ক্ষেতগুলো শুকিয়ে গেছে। ফলে ভালো ফলনের যে আশা ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। কৃষিজ উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকটের পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারামোজা অঞ্চলে বারবার দেখা দেওয়া খাদ্যসংকটের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন উজাড়, অতিরিক্ত পশুচারণ এবং ফসলের রোগবালাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই কারণে স্থানীয় জনগণ প্রতিবছরই দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টির ঝুঁকিতে পড়ছে।
সরকার ইতোমধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আবহাওয়ার আরও নির্ভুল পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সেচব্যবস্থায় বিনিয়োগ এবং খরা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন ও চাষ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, উগান্ডার আধা-শুষ্ক উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতীতে একাধিকবার ভয়াবহ খাদ্যসংকটের সম্মুখীন হয়েছিল। ২০২২ সালে উত্তর-পূর্ব উগান্ডায় অনাহার ও অনাহারজনিত রোগে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি ওকেলো ওরিয়েম অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের ‘বোকা’ বলে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি তখন দাবি করেছিলেন, উগান্ডার উর্বর জমি ও অনুকূল আবহাওয়ার সুবাদে মানুষের নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। তার ওই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।
সূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন