প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত আকাশচুম্বী ভবন এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অ্যান্টেনায় উঠে বিয়ের প্রস্তাব দেন দুই তরুণ-তরুণী। এই ঘটনা স্থানীয় সময় বুধবার ঘটে। এই অভিনব ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনার ফলস্বরূপ গ্রেফতার হন ওই রাশিয়ান প্রেমিক-প্রেমিকা।
শত শত মিটার উঁচুতে কোন ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই তাদের এই দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাক ও মুখোশ পরা ওই যুগল অ্যান্টেনার সরু ধাতব কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে একে অপরকে চুম্বন করছেন। তারা নিরাপত্তা দড়ি ছাড়া অবস্থান করছেন।
এ সময় তারা একটি ব্যানারও উড়িয়ে দেন, যেখানে লেখা ছিল, “যখন ভালোবাসার শক্তি ক্ষমতার প্রতি লোভ-লালসাকে পরাজিত করবে, তখনই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।”
চূড়ায় হাঁটু গেড়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর, যখন তারা ব্যানারটি গুটিয়ে নিচে নামতে শুরু করেন, তখন অ্যান্টেনার একটি প্রশস্ত অংশে পৌঁছানোর পর তাদের একজন আলোকচিত্র ধারণের সরঞ্জাম স্থাপন করেন এবং অপরজনের সামনে হাঁটু গেড়ে বসেন।
এর পর তারা আবার একে অপরকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করেন, পরে নারীর আরোহীকে বাম হাত উঁচিয়ে আংটি দেখাতে দেখা যায় এবং সেলফি তুলতে দেখা যায়।
ঘটনাটি জানার পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের জরুরি সেবা ইউনিটের সদস্যরা অ্যান্টেনায় উঠে ওই যুগলের কাছে পৌঁছান।
পুলিশের বডি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, এক কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এখানে থাকতে পারেন না।”
জবাবে যুগলের একজন বলেন, “আমাদের বাগদান হয়ে গেছে।”
কিছুক্ষণ পর তারা শান্তভাবে নিচে নেমে আসেন। পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া ওই দু’জনের নাম অ্যাঞ্জেলিনা নিকোলাউ ও ইভান কুজনেৎসভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা যথাক্রমে অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান বিয়ারকুস নামে পরিচিত।
তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং আরও কয়েকটি অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল।
এই যুগল ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র ‘স্কাইওয়াকারস: একটি প্রেমের গল্প’- এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছেন।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে দেখানো হয়, কীভাবে তারা বিশ্বের বিভিন্ন উঁচু ভবন ও স্থাপনায় অনুমতি ছাড়াই বিপজ্জনকভাবে আরোহণ করেন। অনেক সময় নির্মাণশ্রমিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে এসব স্থানে প্রবেশ করতেন।
অথরিটিরা জানায়, ১০২ তলা বিশিষ্ট এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অ্যান্টেনাটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এলাকা। ভবনটির মোট উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ৪৫৪ ফুট (৪৪৩ মিটার)।
কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের আরোহণ ছিল সম্পূর্ণ অননুমোদিত। তবে কীভাবে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে অ্যান্টেনায় পৌঁছালেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে প্রবেশের সময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয় এবং বড় ব্যাগ, ক্রীড়া সরঞ্জাম, মুখোশসহ বিভিন্ন সামগ্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণ ডেকে থাকা পর্যটকেরা দুই আরোহীকে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করতে দেখেন। প্রথমে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তারা ভবনের কর্মী।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে আসা পর্যটক জোনাথন রোমান বলেন, “এটা অবিশ্বাস্য। মনে হচ্ছিল সিনেমার দৃশ্য দেখছি।”
তিনি জানান, তিনি ও তার ছেলে পর্যবেক্ষণ ডেকে ওঠার টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু ঘটনার কারণে ভবনের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তিনি বলেন, “সম্ভবত এটি পর্যবেক্ষণ ডেকে দ্বিতীয়বার ওঠার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।”
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অ্যান্টেনায় আগে আরও কিছু দুঃসাহসিক আরোহণের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল অননুমোদিত।
শুধুমাত্র ২০২৩ সালে অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী জ্যারেড লেটো একটি কনসার্ট সফরের প্রচারণার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ভবনটির ৮৬তম তলা থেকে অ্যান্টেনার নিচের অংশ পর্যন্ত আরোহণ করেছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন