প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত রাতে ফুটবল বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে, ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স। এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে দশটি গোল হয় এবং ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংলিশরা। ইংল্যান্ডের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বুকায়ো সাকা, যিনি হ্যাটট্রিক করেছেন।
ফ্রান্সের পরাজয় ঠেকাতে না পারলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে দুই গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের তালিকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন। এমবাপ্পে এখন ২২ গোল নিয়ে সবার উপরে, মেসির ২১ গোলকে টপকে।
বর্তমান বিশ্বকাপে মোট দশ গোল করে এমবাপ্পে গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতায় শীর্ষে রয়েছেন। মেসির গোল সংখ্যা এখন ৮, তিনি দ্বিতীয় স্থানে আছেন। এমবাপ্পে মেসির চেয়ে ৫৭ মিনিট বেশি সময় খেলেছেন। মেসির জন্য গোল্ডেন বুট জয়ের জন্য ফাইনালে অন্তত হ্যাটট্রিক অথবা দুটি গোল ও এক অ্যাসিস্ট করতে হবে।
একটু প্রতিযোগিতা হিসেবে, এমবাপ্পে বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ গোল করেছেন, তিনিই চতুর্থ ফুটবলার এ Achievement। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ১০ গোল করেছিলেন পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার।
মোট ১৪ গোলের মধ্যে এমবাপ্পে ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন এই আসরে। গত ৬০ বছরে যে কোনো আসরে সর্বাধিক গোলে অবদান রাখার রেকর্ড গড়েছেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের প্রতিটি ম্যাচে, সেমিফাইনাল বাদে, গোল করেছেন তিনি। ফাইনালের আগে এমবাপ্পে ক্যরিয়ারের তিন সেমিফাইনালে কোন গোল করতে পারেননি।
তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স-এর মধ্যে মোট ১০ গোল হয়েছিল। এটি বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানের নির্ধারণী ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের নজির। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্স এবং পশ্চিম জার্মানি মিলিয়ে ৯ গোল করেছিল (ফ্রান্স ৬-৩ পশ্চিম জার্মানি)।
এছাড়া, ১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপের এক ম্যাচে এটাই সবচেয়ে বেশি গোল ছিল। ঐ আসরে হাঙ্গেরি ১০-১ গোলে এল সালভাদরকে হারিয়েছিল।
এবার ইংল্যান্ড প্রথমবারের মত তৃতীয় স্থানে ফিরে বিশ্বকাপ শেষ করল, ১৯৬৬ সালে শিরোপা জয়ের পর এই ইংলিশদের জন্য এটি সেরা সাফল্য। ইংল্যান্ড দুবার তৃতীয় স্থানে থাকার সুযোগ পেলে তা ব্যবহার করতে পারেনি। ২০১৮ সালে বেলজিয়াম ও ১৯৯০ সালে ইতালির সঙ্গে হেরে তারা স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল।
জুড বেলিংহাম বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের ফুটবলার হিসেবে সর্বাধিক ৭ গোল করেছেন। ১৯৮৬ সালে গ্যারি লিনেকারের রেকর্ড ছিল ৬ গোল। উল্লেখ্য, দুইজনেই পেনাল্টি থেকে কোন গোল করেননি।
বুকায়ো সাকা চতুর্থ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন। তার আগে জিওফ হার্স্ট (১৯৬৬ সাল), গ্যারি লিনেকার (১৯৮৬ সাল), এবং হ্যারি কেন (২০১৮ সাল) হ্যাটট্রিক করেছেন।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বাধিক অ্যাসিস্টে মাইকেল ওলিসে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে কে পেছনে ফেলেছেন। এবারের আসরে ৭ টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তার। ১৯৭০ সালে পেলের ৬ টি অ্যাসিস্ট এর রেকর্ড ছিল।
ওলিসের অ্যাসিস্টে এমবাপ্পে ৫ গোল করেছেন। ৬০ বছরের পরিসংখ্যানের মধ্যে একজন খেলোয়াড়ের সর্বাধিক অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড এটি।
২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স টানা দুই ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছিল। ১৬ বছর পর বিশ্ব মঞ্চে ফ্রান্স আবার টানা দুই ম্যাচ হারল। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে হারল ফ্রান্স।
কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের অধীনে ১৪ বছরে ফ্রান্স ২৬ বিশ্বকাপ ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছে। এটি কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে দায়িত্ব পালনের নতুন রেকর্ড।
বর্তমান আসরে ১০৩ ম্যাচে ৩০৭ গোল হয়েছে, যা প্রতি матчের গড় ২.৯৮ টি। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের পর এবারই সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গড় গোল।
৫৮ বছর পর প্রথমবার ফ্রান্স প্রথমার্ধে চার ম্যাচে গোল হজম করল। সর্বশেষ ১৯৬৮ সালে ইউরো বাছাইপর্বে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে তারা প্রথমার্ধে চার গোল খেয়েছিল। ইংল্যান্ডের ডেক্লান রাইস বিশ্বকাপে যে কোন ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট সহ প্রথম ফুটবলার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন