প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এক ফেডারেল বিচারক।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ ত্রিনা থম্পসন একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে বলেন, ‘যদিও বিবাদীরা (ট্রাম্প প্রশাসন) দাবি করছেন যে তাদের এই পদক্ষেপগুলো অ-নাগরিকদের অবৈধ ভোটদান বন্ধ করার জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে এর ফলে নির্বাচনী পরিচালনায় হস্তক্ষেপ ঘটার এবং বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার হরণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি নির্দেশ দেন যে, এই আদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় বিচার বিভাগ এবং ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কোনো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ব্যালট আলাদা করার, ভোটার তালিকা থেকে ভোটার বাদ দেওয়ার কিংবা ব্যালট প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক নিযুক্ত বিচারক থম্পসন ওই সংস্থাগুলো কর্তৃক নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার হুমকি দেওয়ার পথও বন্ধ করে দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ভোটাররা ‘অযোগ্য’, এমন দাবি তুলে ব্যালট প্রক্রিয়াকরণের নিয়ম পরিবর্তনের জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হুমকি, ভয়ভীতি বা চাপ সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ প্রশাসন নিতে পারবে না। প্রশাসন গত কয়েক মাস ধরে যে অভিযোগ করেছে যে নির্বাচনী কর্মকর্তারা অবৈধ ভোট ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, বিচারক থম্পসনের রুলিংয়ে তার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ‘যখন রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের কর্মীরা আইন অনুযায়ী ব্যালট বিতরণ, প্রক্রিয়াকরণ, গণনা কিংবা অন্য কোনোভাবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন, তখন তারা কোনো ফেডারেল ফৌজদারি আইন লঙ্ঘন করেন না, এমনকি যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যালট এমন একজন নিবন্ধিত ভোটারেরও হয় যাকে বিবাদী পক্ষ (প্রশাসন) ভোটদানের অযোগ্য বলে দাবি করছে।’
বিচারক আরো নির্দেশ দিয়েছেন, প্রশাসন যে তালিকা তৈরি করেছে, তার ভিত্তিতে কোনো ‘সার্চ ওয়ারেন্ট আবেদন, গ্র্যান্ড জুরি সমন কিংবা নির্বাচনী সামগ্রী বা ব্যালট নেওয়ার অন্য কোনো নির্দেশ’ জারি করা হয়ে থাকলে তা প্রশাসনকে অবশ্যই আদালতকে জানাতে হবে। বিচারক এই আদেশের মেয়াদ ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর একটি জোট মামলাটি দায়ের করেছে, যার মধ্যে ‘এনএএসিপি’ এবং ‘লীগ অফ ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনস’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের সাম্প্রতিক আচরণ ভোটাধিকার আইন লঙ্ঘন করে এবং নির্বাচন পরিচালনার ওপর রাজ্যগুলোর সাংবিধানিক কর্তৃত্বে এক অন্যায় হস্তক্ষেপের শামিল।
প্রশাসনের এই তৎপরতার কেন্দ্রে রয়েছে ডিএইচএস-এর নেতৃত্বাধীন একটি বিতর্কিত ডেটা-ম্যাচিং প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে রাজ্যের ভোটার তালিকার সাথে ফেডারেল রেকর্ডের তুলনা করা হয়েছে। তবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিএইচএস সন্দেহভাজন অ-নাগরিকদের যে তালিকা তৈরি করেছে তা নির্ভরযোগ্য নয় এবং এর মধ্যে অনেক প্রকৃত মার্কিন নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলায় এখন বিভিন্ন বিচারক এই ডেটা-ম্যাচিং পদ্ধতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়া বন্ধ করার লক্ষ্য দাবি করে ফেডারেল সরকার রাজ্যগুলোকে যেভাবে তাদের সাথে সহযোগিতা করতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে, তা ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আগ্রাসী তৎপরতাকে আদালতের চৌকাঠে বারবার ধাক্কা খাওয়াচ্ছে।
মামলা চলা সত্ত্বেও বিচার বিভাগ চাপ বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারা ২৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে চিঠি পাঠিয়ে তদন্তের হুমকি দিয়েছে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের সমস্ত রেকর্ড ও ভোটার ডেটা সংরক্ষণ করার দাবি জানিয়েছে। যদিও ফেডারেল আইন অনুযায়ী নির্বাচনের পর ২২ মাস পর্যন্ত সমস্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিচার বিভাগ হাজার হাজার ভোটারের ব্যালট গণনা বন্ধ করতে মামলা করেছিল, যাদের ফেডারেল সরকার অ-নাগরিক হতে পারে বলে দাবি করছে। তবে একটি ফেডারেল আপিল আদালত প্রশাসনের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউএস নাইন্থ সার্কিট কোর্ট অফ আপিল জানিয়েছে, রাজ্যগুলো কীভাবে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই করবে, সেই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার ফেডারেল প্রশাসনের নেই।
সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন