ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত পাঁচ বিতর্ক


এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত পাঁচ বিতর্ক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই যতটুকু আলোচনায় এসেছে, তা থেকে কম নয় মাঠের বাইরের নানা ঘটনা। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ভিডিও প্রযুক্তির বিতর্ক, আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম, এমনকি খেলার মাঝে হাইড্রেশন বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্তও যথেষ্ট ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপ শেষের পথে থাকলেও এসব বিতর্ক এখনও একে অপরের মধ্যে আলোচনা চলছে।

সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান, যিনি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য বৈধ ভিসা ছিল, তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুললেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

আফ্রিকার সেরা পুরুষ রেফারির স্বীকৃতি পাওয়া আরতানকে নিয়ে ফিফার নীরব ভূমিকাও সমালোচিত হয়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সমালোচকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও অনেকের মতে, সংস্থাটি নিজের কর্মকর্তার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেনি।

আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী

পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর, নিষিদ্ধ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফলারিন বালোগুনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পরে তুলে নেয় ফিফা। ফিফা দাবি করে, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবেই কাজ করেছে। কিন্তু ইউরোপের ফুটবল সংস্থা, বেলজিয়াম ফুটবল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন দেশের ফুটবল কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের মতে, এতে ফিফার শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মিশরের একটি গোল বাতিল করা হয় আগের একটি ফাউলের কারণে। সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি মিশরের কোচ হোসাম হাসান, অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহসহ বহু সাবেক ফুটবলার। তাদের দাবি, এত দূরের ঘটনার জন্য গোল বাতিল করা উচিত হয়নি।

শেষ আটে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, ওই ঘটনায় কার্ড দেখানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।

বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই টিকিটের দাম নিয়ে সমালোচনা চলছে। ফাইনালের জন্য দ্বিতীয় শ্রেণির একটি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার। এর আগে পুনরায় বিক্রির বাজারে কিছু টিকিটের দাম ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। অতিরিক্ত দামের অভিযোগ এনে একটি সমর্থক সংগঠন মামলা করেছে। এছাড়া টিকিটের মূল্য নির্ধারণ এবং আসনসংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ

গরমে খেলোয়াড়দের পানি পান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিটি ম্যাচে নির্দিষ্ট সময় পর বিরতি দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে ফিফা। তবে সব ম্যাচে এই নিয়ম প্রয়োগ করায় সংস্থাটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। খেলোয়াড়, কোচ, বিশ্লেষক ও সমর্থকদের অনেকেই বলেন, সব মাঠে অতিরিক্ত গরম ছিল না। তাই সব ম্যাচে বিরতি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তাদের অভিযোগ, খেলার গতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের সময় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে এখন জমে উঠেছে বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াই। তবে শিরোপার উত্তেজনার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপ মনে রাখা হবে এসব বিতর্কের কারণেও। রাজনৈতিক প্রভাব, রেফারিং, টিকিটের মূল্য এবং ফিফার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও আলোচনায় থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে ৯ দিনে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ এম


কক্সবাজারে ৯ দিনে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

কক্সবাজারে টানা ৯ দিনের বৃষ্টির ফলে ভূমিধস ও বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য নিরূপণ করেছেন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রাণহানি, বসতবাড়ি, সড়ক, বেড়িবাঁধে ভাঙনসহ ব্যাপক ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে পেকুয়া উপজেলা। এখানে ৯৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এরপর মাতামুহুরীতে ৮৫ শতাংশ, চকরিয়ায় ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়ায় ৬৫ শতাংশ এবং মহেশখালীতে ৫০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে রামু উপজেলার ৩৫ শতাংশ, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ২৫ শতাংশ করে এবং ঈদগাঁও উপজেলার ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৪ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া একজন নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উখিয়া উপজেলায়। সেখানে পাহাড়ধসে ১৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক সমন্বিত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলার ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পরিবার এবং ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা। মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মোট ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পেকুয়ায়। উপজেলাটিতে ৪৫০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এরপর রয়েছে চকরিয়ায় ৩০০টি, কুতুবদিয়ায় ২৫০টি, মহেশখালীতে ২০০টি এবং মাতামুহুরীতে ১৯০টি বসতবাড়ি। এছাড়া টেকনাফে ১০০টি, উখিয়ায় ৫০টি, ঈদগাঁওয়ে ৩০টি, রামুতে ২৫টি এবং কক্সবাজার সদরে ১৮টি।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর আওতাধীন ৩৮০ দশমিক ২৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে টানা বৃষ্টিতে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ৪৪টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাতামুহুরি উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্বাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় প্রায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ও একটি সেতুর অংশ ভেঙে গেছে। বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হবে।

প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মোট ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলা।

চকরিয়ায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০টি সেতু-কালভার্ট, মাতামুহুরীতে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট, এবং পেকুয়ায় ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সদরে ২০ কিলোমিটার, রামুতে ৫০ কিলোমিটার, কুতুবদিয়ায় ৯ কিলোমিটার, উখিয়ায় ৬ কিলোমিটার, টেকনাফে ৫ কিলোমিটার এবং ঈদগাঁওয়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতু ও কালভার্টের মধ্যে টেকনাফে ১৫টি, উখিয়ায় ১২টি, রামুতে ৫টি, কক্সবাজার সদরে ৪টি, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় দুটি করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায়। এই দুই উপজেলায় ১৫টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য উপজেলার তালিকা এখনো জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেনি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ৯ দিনে জেলার ৬১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত এলাকার মানুষদের ৭৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৯৮ মেট্রিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ৯ দিনে কক্সবাজারে মোট ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭০টি এবং পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটি প্লাবিত হয়। এতে জেলার প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায় এবং অন্তত আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র, পাল্টাপাল্টি হামলায় মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ এম


হরমুজকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র, পাল্টাপাল্টি হামলায় মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। একই সময়ে, ইরানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। খবরটি আল-জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিট) সর্বশেষ হামলা শুরু হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক নাগরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বন্দর নগরী বান্দার আব্বাস, কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং বুশেহর প্রদেশের জাম শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফারস সংবাদ সংস্থা জানিয়েছেন, পশ্চিম বান্দার আব্বাসে একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে, তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, বান্দার আব্বাসের কাছে একটি মার্কিন নির্মিত ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে তারা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ওমান উপসাগরসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছে এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন বলে দেশটি জানিয়েছে।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা অভিযান শুরু করা হয়েছে।

এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গোলাবারুদ গুদাম এবং যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে সোমবার বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতেও হামলা চালানোর দাবি করেছিল ইরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১০ জুলাই কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, ৭ জুলাই থেকে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ আবার শুরু হয়েছে। তিনি নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই আরও ৬০ দিন মার্কিন বাহিনীকে অভিযানে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

নৌ চলাচল বিষয়ে ইরান জানিয়েছে, ইরান ছাড়া অন্য গন্তব্যে যাওয়া জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজ তল্লাশির পর চলাচলের অনুমতি পাবে। তবে অবরোধ এড়িয়ে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজে অভিযান চালানো হবে এবং নির্দেশনা অমান্য করলে তা অক্ষম করে দেওয়া বা ধ্বংস করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে চলছে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিনিময়ে চলাচলকারী পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপ করা হবে। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালির রক্ষক সব সময়ই ইরান ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আর হরমুজ প্রণালীর আসল অভিভাবক ইরানই, ট্রাম্পের ২০% টোল বড় বেশি।’

হোয়াইট হাউসে একটি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে সংঘর্ষ চললেও এখনো একটি সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। আলজাজিরার হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা মাইক হান্নার মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ওয়াশিংটন এখনো আলোচনার পথ খোলা রাখতে আগ্রহী।

এদিকে, দুই দেশের সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮১ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা জুনের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বন্যা ও পাহাড়ধস

এখনো পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


এখনো পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার

বন্যা এবং পাহাড়ধসে দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন

দেশের সাতটি জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার। নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ। সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ বন্যাকবলিত হয়েছে।

এ কারণে জেলাগুলোর ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে কক্সবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয়, রাঙ্গামাটিতে তিন এবং মৌলভীবাজারে এক জনের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২, বান্দরবানে দুই এবং খাগড়াছড়িতে এক জন রয়েছেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিপন্ন মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয় দেয়ার উদ্দেশ্যে সরকারিভাবে এক হাজার ৪২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখার জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে ইজিএস শিক্ষানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ এম


কাউখালীতে ইজিএস শিক্ষানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ
 
 
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ইজিএস শিক্ষানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট শিক্ষা অনুরাগী ও সমাজসেবক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ।
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার মান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও এগিয়ে যাবে।
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর একান্ত সাক্ষাৎকারে এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন,
আমি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদান নয়, একজন আদর্শ ও মানবিক মানুষ গড়ে তোলার কারিগর। তাই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন,
প্রতিষ্ঠানে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ইজিএস শিক্ষানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে গড়ে তুলতে চাই।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন,
প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার পরিবেশ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের উন্নয়নে কাজ করব। মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে তারা আশাবাদী।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত সভাপতি এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদের নেতৃত্বে ইজিএস শিক্ষানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে কাউখালী উপজেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%