প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সরকারি কোনো ঘোষণা বা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্ধশতাধিক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোসলেউদ্দিন নামক এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
এছাড়া, শুধুমাত্র ফ্যামিলি কার্ড নয়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিশুর জন্মনিবন্ধন এবং শিক্ষকতার চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত মোসলেউদ্দিন চর মার্টিন ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকার আবুল বাশারের ছেলে। ভুক্তভোগীদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার ‘ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি’ হিসেবে দাবি করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় মুন্সিরহাট বাজারের প্রবীণ সবজি বিক্রেতা আবু তাহের বলেন, "রাস্তাঘাট ও ডোবা থেকে কচুর লতি আর শাক তুলে বাজারে বিক্রি করে ৫-১০ টাকা করে জমানো টাকা মোসলেউদ্দিনের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ফ্যামিলি কার্ড হলে সরকার মাসে মাসে টাকা দেবে, বাকি জীবন আরামে চলবে। কার্ডের জন্য ‘উপজেলার স্যারকে’ দিতে হবে বলে আমার কাছ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা নেয়। পরে বুঝতে পারি, সে আমাকে ধোঁকা দিয়েছে।"
একই এলাকার চা দোকানদার আবদুস সহীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, কহিনুর বেগমের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা, ফয়জুন্নেছার কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, নুরনাহারের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং মেথর সেলিমের কাছ থেকেও ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেন মোসলেউদ্দিন।
শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে থাকা ষাটোর্ধ্ব অজুফা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, "টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে কষ্ট হয়। ফ্যামিলি কার্ড হলে প্রতি মাসে টাকা পাওয়া যাবে বলে মোসলেউদ্দিন আমার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন টাকাও নেই, মোসলেউদ্দিনও নেই, কার্ডও নেই।"
এছাড়া, রহিমা আক্তার নামের এক নারীর কাছ থেকে ছেলের জন্মনিবন্ধনের কথা বলে ২ হাজার টাকা এবং জরিনা বেগম নামের অপর এক নারীর কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার নামে ৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রতারণার জাল ছড়িয়েছে চাকরির আশ্বাসেও। স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক মো. বশির জানান, এক বছর আগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা নেন মোসলেউদ্দিন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার মতো আরও অন্তত ২০ জন প্রার্থীর কাছ থেকে একইভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মোসলেউদ্দিন। এখন পাওনা টাকা ফেরত চাইলে উলটো গালমন্দ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন তিনি।
স্থানীয় তারেক রহমান রকি বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড ও নানা ভাতার নামে মোসলেউদ্দিনের প্রতারণার বিষয়টি এলাকার সবার জানা। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কেউ প্রতারণা করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।"
এদিকে, প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হলে সম্প্রতি স্থানীয় মুন্সিরহাট বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে মোসলেউদ্দিনকে অবরুদ্ধ করেন। এ সময় তীব্র হট্টগোল সৃষ্টি হলে স্থানীয় সাবেক মেম্বার নুরুল আমিনসহ কয়েকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে ভুক্তভোগীদের সমুদয় টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে মুক্ত হন মোসলেউদ্দিন। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ যুগান্তরের হাতে এসেছে।
অভিযুক্ত মোসলেউদ্দিন প্রতারণার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "এলাকার একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব রটাচ্ছে।" ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য ভাতার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে লোকজন আপনাকে অবরুদ্ধ করার একটি ভিডিও রয়েছে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান জানান, উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যালয়ে ইতোমধ্যে আবু তাহের ও পারভীন আক্তার নামে দুজন ব্যক্তির দুটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন