মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫২ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের সাধু রামচন্দ্র দাস প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ। দীর্ঘদিন ধরে ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে প্রায় ৯০ বছর বয়সী বাবা শ্রী শরৎচন্দ্র দাস এখন মৃত্যুশয্যায়। জীবনের শেষ সময়ে একবার হলেও ছেলেকে দেখতে চান তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাধু রামচন্দ্র দাস বিয়ের পর লালমনিরহাটে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও দীর্ঘদিনেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
এদিকে বয়সের ভারে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন সাধু রামচন্দ্র দাসের বাবা শ্রী শরৎচন্দ্র দাস। বর্তমানে তিনি মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন। ছেলের ফিরে আসার আশায় এখনো পথ চেয়ে আছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাধু রামচন্দ্র দাস বর্তমানে কোথায় আছেন কিংবা তার সঙ্গে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। কেউ তার সন্ধান পেয়ে থাকলে অথবা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে পরিবারের সদস্যদের জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ ছেলের অপেক্ষায় থাকা বৃদ্ধ বাবার এখন একটাই আকাঙ্ক্ষা জীবনের শেষ সময়ে যেন একবার হলেও ছেলেকে চোখের সামনে দেখতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জাতীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং সমন্বয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে একটি বাস পুকুরে পড়ে যাওয়ার ফলে আব্দুল মালেক নামের ৫৫ বছর বয়সী একজনের মৃত্যু হয়েছে। আব্দুল মালেক বানারীপাড়া উপজেলার ভাইসারী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
এই দুর্ঘটনাটি আজ শনিবার সকালে বরিশাল-স্বরূপকাঠি মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা এলাকায় ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি স্বরূপকাঠি থেকে বরিশালের দিকে আসছিল। বাসের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরূপকাঠি থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস মাধবপাশার গজালিয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পুকুরে পড়ে যায়। এই ঘটনায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, বাসটি উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে। উদ্ধার কাজ শেষ হলে পরবর্তী বিষয়ে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ ফুটবলের আংশিক মালিকানা বিক্রির প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বর্তমানে নতুন চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। উয়েফা ও কনকাকাফ ফিফার কাছে ২১১ কোটি ডলার দেওয়ার দাবি তুলেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকার সমান।
বিবিসি স্পোর্টসের কাছে প্রাপ্ত উয়েফা ও কনকাকাফের যৌথ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৭-২০৩০ চক্রে ফিফার ২১১ সদস্য সংস্থার প্রত্যেককে অন্তত ১ কোটি ডলার করে দেওয়া উচিত। এই হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ১ কোটি ডলার পেতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৩ কোটি টাকার সমান।
এই অর্থ মূলত ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা হবে। যৌথ চিঠিতে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফারিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে ফিফার বর্তমান আর্থিক অবস্থার একটি বিশ্লেষণও উপস্থাপন করা হয়েছে। উয়েফা ও কনকাকাফের দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চার বছরে ফিফার তহবিলে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার জমা হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকার সমান।
তাদের মতে, ২০৩০ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপ পর্যন্ত হিসাব করলে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া ফিফার পক্ষে সম্ভব।
এর আগে, ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ফিফা শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ক্ষমাও চেয়েছিলেন ফিফা সভাপতি।
তবে বিতর্ক থামেনি। ফিফার কয়েকটি সদস্য সংস্থা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে এবং কিছু সদস্য তাঁর পদত্যাগও দাবি করেছে। উয়েফা, কনকাকাফ এবং এএফসির পক্ষ থেকেও যৌথভাবে বলা হয়েছিল, ফুটবল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
আগামী মার্চে ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি পদে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা করছেন। ২০১৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ফিফার নেতৃত্বে রয়েছেন। নির্বাচন সামনে রেখে ২১১ সদস্য সংস্থার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের এই দাবি তাঁর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী পিতলের ডেগগুলোতে দান করা অর্থের গণনা শুরু হয়েছে। দরগাহের ইতিহাসে প্রায় সাড়ে ৭০০ বছরের মধ্যে এটি চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। গণনার এই প্রক্রিয়া মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে চলছে। এতে অংশগ্রহণ করেছেন মাদরাসাশিক্ষার্থী, মাজার কমিটির সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা।
চতুর্থবারের মতো অর্থ গণনা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এর আগে সর্বশেষ ১৫ আগস্ট দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেই দিন গণনা শেষে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। সেই সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও সোনা ও রূপার গহনাও পাওয়া গিয়েছিল।
আরো পড়ুন
সিলেটে হাম উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু
প্রথমবার ২২ জুন দানবক্স প্রকাশ্যে খুলে গণনা করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, সাত আনা সোনাসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ ছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম সোনাসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা পাওয়া যায়। পাশাপাশি একটি গরু এবং ৬৫টি ছাগলও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।
মাজার পরিচালনা কমিটির সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় পর পর বাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
আরো পড়ুন
গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১
প্রসঙ্গত, সিলেটের এই মাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আসেন। তাদের অনেকে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দান করেন। নির্দিষ্ট সময় পর পর এসব বাক্স খোলা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ