প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ চীন সাগরের তীব্র তাপদাহের মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর আর্লেই বার্ক-শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস বেনফোল্ড’ চরম যান্ত্রিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। গত জুলাই মাসে জেনারেটরে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় ১০ হাজার টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটি টানা চার দিন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ভেসে ছিল। ফলে সাগরের ভেতরে তীব্র গরমের মধ্যে জাহাজে বন্ধ হয়ে যায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, টয়লেট, রান্নাঘর এবং পানীয় জল সরবরাহ।
মার্কিন সপ্তম ফ্লিট সিএনএনকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কারণে মার্কিন নৌবাহিনীর উপর যে বাড়তি মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, এই ঘটনা সেই সংকট ও চরম অব্যবস্থাপনার একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন সপ্তম ফ্লিটের মুখপাত্র নেভি কমান্ডার ম্যাথিউ কোমার জানান, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি নিয়মিত অপারেশন চলাকালে ২৪ জুলাই এই ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যালিমিটি’ বা কারিগরি বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে রণতরিটি শুধু নিজের চলাচলের সক্ষমতা হারায়নি, বরং এর অভ্যন্তরীণ সার্বিক সেবা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। কমান্ডার কোমার বলেন, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি এবং তারা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে অত্যন্ত ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করেছেন। মার্কিন এনআই নিউজ প্রথম এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনার খবর প্রকাশ করে জানায় যে এটি দক্ষিণ চীন সাগরে ঘটেছিল। বর্তমানে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলমান রয়েছে।
বিপর্যয়ের সময় দিনে তাপমাত্রা সাধারণত ৩২ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৮৯ থেকে ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) মধ্যে ওঠানামা করছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার তাঁর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, পোয়ের্তো রিকোর কাছে একটি ডেস্ট্রয়ারে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকা যেটি কঠিন, দক্ষিণ চীন সাগরে টানা চার দিন সেই পরিস্থিতিতে থাকা ছিল আরও অনেক বেশি উদ্বেগ ও মানসিক চাপজনক। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কমান্ডিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রতিটি সদস্যকে ভাসমান জাহাজের দিক পরিবর্তন, আবহাওয়া, খাবার ও নিরাপত্তা নিয়ে সীমাহীন উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
সংকটের ওই চারদিন জাপানে ঘাঁটি গাড়া ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’-এর অন্যান্য জাহাজ বেনফোল্ডকে সহায়তা প্রদান করে। বিশেষ করে মার্কিন নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার ‘ইউএসএস রবার্ট স্মলস’ বিদ্যুৎহীন বেনফোল্ডের নাবিকদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহ করে। পরবর্তীতে টানা চার দিন অচল থাকার পর জাহাজটিকে টেনে ফিলিপিন্সের সাবিক বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে, ৮ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন হলে জাহাজটি পুনরায় তার নিয়মিত দায়িত্বে ফেরত আসে। জাপানের শিপ স্পটারদের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ইতিমধ্যে জাপানে এসে পৌঁছেছে।
এটি ইতিমধ্যে দুইবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের এই সীমানায় মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের। এর আগেও মে মাসে ‘ইউএসএস হিগিন্স’ নামক আরেকটি ডেস্ট্রয়ার বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য শক্তি ও চালিকাশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। বেনফোল্ড ও হিগিন্সের মতো আর্লেই বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত, যাদের সংখ্যা বর্তমানে ৭০টিরও বেশি। আনুমানিক ৫০০ ফুট দীর্ঘ এই যুদ্ধজাহাজগুলোতে গড়ে ৩২৯ থেকে ৩৫৯ জন ক্রু সদস্য দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী অভিযানে টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্দরে নোঙর না করায় মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর কর্মীদের চরম মানসিক অবসাদের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে এই বেনফোল্ডের ঘটনা মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন