প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলমান ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন বিশ্বকাপের আয়োজনের ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে ভয় দেখিয়েছে, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিফার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে এসব অভিযোগ করেন।
পোস্টে পেজেশকিয়ান লেখেন, বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে মার্কিন সরকারের আচরণ তাদের পরিচিত পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন, নিয়ম বাঁকানো, প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর দাদাগিরি করা, বাধা সৃষ্টি করা এবং জালিয়াতি। এটিই তাদের পরিচিত ‘ম্যাগা প্লেবুক’। ইরান এ ধরনের নোংরা খেলাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে। তারা তাদের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে ফাউলের জন্য বালোগান লাল কার্ড দেখেন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নকআউট ম্যাচে তাঁর এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে এই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর ফিফা বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে এবং তাকে মাঠে নামার অনুমতি দেয়।
ফিফার এই সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক প্রভাবাধীন’ বলে সমালোচনা করে বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা। তবুও সে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।
ইরানের দাবি, বিশ্বকাপ জুড়ে তাদের দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার অজুহাতে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ইরান দলের টেকনিক্যাল স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা করা হয়। একই সাথে নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইরান দলের কোনও বেস ক্যাম্প অথবা অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এর ফলে পুরো দলকে বাধ্য হয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় অবস্থান করতে হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের দিন বিমানযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলে আবার দ্রুত ফিরে আসতে হয়েছে তাদের।
ইরানের মতে, এই দীর্ঘ ভ্রমণ এবং লজিস্টিক জটিলতা দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবুও, গ্রুপ পর্বে তারা কোনো ম্যাচে হারেনি। কিন্তু গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গত ২৮ জুন নকআউট পর্বে ওঠার আগে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন