রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৬ পি.এম
গাজা শহরের জেইতুন মহল্লায় ইসরায়েলি হামলার ফলে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সম্প্রতি উদ্ধার করা ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই জানাজাটি রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত হয়, যেখানে নিহতদের স্বজন, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ হাজারো ফিলিস্তিনি অংশগ্রহণ করেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের পাশে একটি স্থানে মরদেহ ও দেহাবশেষগুলোকে ফিলিস্তিনি পতাকায় মুড়ে রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা, যারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য প্রদান করেন। জানাজার নামাজ শেষ হওয়ার পর মরদেহ ও দেহাবশেষগুলো জেইতুন এলাকার আল-আহলি কবরস্থানে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ১৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের উদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতরা রহিম, বালাউই, মালাকা, কানবুর ও সালমি পরিবারের সদস্য। প্রায় আড়াই বছর আগে ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি আবাসিক বাড়িতে হামলা চালালে তারা নিহত হন বলে জানা গেছে।
ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমিত সম্পদ নিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। অল্পসংখ্যক খননযন্ত্র ও জরাজীর্ণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেই ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।
সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির হিসাব অনুযায়ী, দাফন করা মরদেহ ও দেহাবশেষের সংখ্যা অনুযায়ী রবিবারের এই জানাজা ফিলিস্তিনি ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে আগস্টের শুরুতে গাজা শহরের সাবরা এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১২ ফিলিস্তিনির জন্যও একই ধরনের জানাজার আয়োজন করা হয়েছিল।
উদ্ধার প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজা শহর এবং ছিটমহলটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে মোট ৮০০ ঘণ্টা উদ্ধারকাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১ হাজার ৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় শুরু হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে। ওই পর্যায়ে ৫০০ ঘণ্টা কাজ করে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল ৫৪টি বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ আনুমানিক ৫৫৯ জনের মধ্যে প্রায় ৩৩৩ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করে।
গাজার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায় অনুযায়ী উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের। প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলার পর গাজায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হন। একই সময়ে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
এ সময় আপিল বিভাগের মাননীয় বিচারপতিবৃন্দ এবং পিএসসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।
সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে আগামী ৫ বছর অথবা তার ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন।গত ১৮ আগস্ট পিএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করলে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) পুষ্টি প্রাণরসায়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ নিয়ন্ত্রণে পুষ্টি প্রাণরসায়নের ভূমিকা নিয়ে সেমিনারে আলোচনা করা হয়।
আজ রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ ও রিসার্চ সেল এ সেমিনারের আয়োজন করে।
যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের তোহকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হিদেতোশি সিরাকাওয়া প্রধান বক্তা হিসেবে পুষ্টির আণবিক ভিত্তি ও রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইউশোকু ওহসাকি। তারা কিডনির কার্যকারিতা রক্ষা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও মেটাবলিক ডিসঅর্ডার প্রতিরোধে পুষ্টির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন।
তোহকু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ৪০ বছরের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘জাপানি গবেষকদের নিয়মানুবর্তিতা, কঠোর পরিশ্রম ও দেশপ্রেম আমাদের তরুণ গবেষকদের জন্য অনুকরণীয়।’ তিনি ‘রুনপাকু’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশে থেকেই তোহকু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করার সুযোগের কথা জানান।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান এবং জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ এবং ভারতের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক এবং ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, "ভারত ও বাংলাদেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো উন্নত করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সীমান্তের শূন্য রেখায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ডাক বাংলোতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
এ সময় বাংলাহিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মন্ডলসহ বন্দরের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণকারী ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহণকারী এসব কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করে তাদের কাছে ব্যাংকের প্রাপ্য ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করেছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এ ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় দেশের সব উপজেলার কৃষক সুবিধা পেয়েছেন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় করদাতার সংখ্যা সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জেলাটিতে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ