প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেট নগরীর একটি সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২১)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (২য় বর্ষ) ছাত্র ছিলেন।
এই ঘটনা ঘটে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে এয়ারপোর্ট রোডের চৌকিদিঘী এলাকার ‘ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলে’।
প্রিয়মের পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর হলেও তাঁর পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
জানা গেছে, ওই দিন প্রিয়ম পাঁচ বন্ধু মিলে ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠী ফায়াজ নবী জানান, তিনি এবং তাঁর তিন বন্ধু নিয়মিত ওই সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যেতেন। ঘটনার দিন প্রিয়মও তাঁদের সঙ্গে যাওয়ার কথা বলেন এবং নিজেকে সাঁতার জানানো ব্যক্তিরূপে পরিচয় দেন। তবে ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুরা জানান, প্রকৃতপক্ষে তিনি সাঁতার জানতেন না।
ফায়াজ নবীর ভাষ্যমতে, বিকেল ৫টার দিকে তাঁদের সাঁতার কাটা শুরু হয়। প্রিয়ম দু-একবার ৯ ফুট গভীর অংশে গিয়ে আবার ফিরেও আসেন। পরে, সবাই সাঁতারে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় তিনি আবার ৯ ফুট গভীর পানিতে চলে যান, তা কেউ খেয়াল করেননি। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে সুইমিংপুলের কর্মীরা তাঁকে ওই গভীর পানি থেকে উদ্ধার করেন।
ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু জানান, সুইমিংপুলের নিয়ম অনুযায়ী যাঁরা সাঁতার জানেন না তাঁদের ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু প্রিয়ম তা লঙ্ঘন করে ৯ ফুট গভীর অংশে চলে গিয়েছিলেন। সুইমিংপুলের এক কর্মী তাঁকে পানির নিচে চিত হয়ে ভাসতে দেখে বিষয়টি ইনস্ট্রাক্টরকে জানান। এরপর তিনি দ্রুত প্রিয়মকে উদ্ধার করে শরীরে ঝাঁকুনি দিতে থাকেন, এতে প্রিয়ম বমি করেন এবং হালকাভাবে শ্বাস নিচ্ছিলেন। পরে তাঁকে সিএনজিতে করে নগরীর দরগাহ গেট এলাকার নূরজাহান হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর আইসিইউতে তাঁর ইসিজি করা হয়। পরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, "দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি, তাঁরা মরদেহ নেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবার পৌঁছানো পর্যন্ত মরদেহ সংরক্ষণের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।"
ময়নাতদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিষয়টি সম্পূর্ণ তাঁর পরিবারের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর পরিবার যেভাবে চাইবে, আমরা সেই আলোকে তাঁদের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।"
এ বিষয়ে সিলেটের বিমানবন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (পরিদর্শক) আব্দুস সালাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী সাঁতার কাটতে সুইমিংপুলে গিয়েছিলেন। পরে একজন শিক্ষার্থীকে ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন