প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, চিকিৎসক তৈরিতে রাষ্ট্রের অনেক অর্থ ব্যয় হয়, তাই তাদের সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। তিনি বলেন, "রোগীদের ভালোবেসে চিকিৎসা দিলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।" রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সোসাইটি অব ওটোলারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ’-এর বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে বলেন, "আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দেশের সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এটি জনগণের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার ৫৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা সব মানুষের দোরগোড়ায় সেই সেবা পৌঁছে দিতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা।"
তিনি আরো বলেন, "গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে কিছু শয্যা থাকলেও সেখানে অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা পাচ্ছে না। আমাদের গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রায় নেই বললেই চলে।"
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, "আগের সরকারের আমলে কেনা অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনও বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। আমি ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে দেখেছি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটর আছে কিন্তু তেল বরাদ্দ নেই। অ্যাম্বুলেন্স আছে, কিন্তু চালক নেই। এই সিস্টেম ঠিক করতে না পারলে শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়। মেশিন আনা হলেও তা চালানোর জন্য টেকনিশিয়ান বা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নেই। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।"
চিকিৎসকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমাদের দেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত মেধাবী ও আন্তরিক। তবে চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে হৃদয়ের অভাব বা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব অনেক সময় পরিলক্ষিত হয়। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি মানবিক হতে হবে।"
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "দেশের স্বাস্থ্য খাতে অনেক কাজ বাকি। প্রধানমন্ত্রী এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আগ্রহী। জিয়াউর রহমান স্বাস্থ্য খাতে অনেক গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং খালেদা জিয়া প্রতিটি জেলা-উপজেলায় শয্যা বাড়িয়েছিলেন। আশা করছি, বর্তমান সরকার দেশের গরিব সাধারণ মানুষের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন