প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নথি ও সাক্ষ্য নিতে চেয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, বিবিসির আইনজীবীরা গত মে মাসে ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে তলবি নোটিশ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে হামলার আগে ট্রাম্পের একটি ভাষণের দুটি ভিন্ন অংশ একসঙ্গে সম্পাদনা করে একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানে প্রচার করে বিবিসি। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ওই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করেন।
বিবিসি সম্পাদনার ভুলের জন্য আগে ক্ষমা চাইলেও তাদের দাবি, এটি মানহানির মামলা করার যথেষ্ট কারণ নয়। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের দাবী, ট্রাম্পের বক্তব্য দেওয়ার সময় তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে জানা ছিল। সেই কারণে, তাদের সাক্ষ্য ও নথি মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প তাদের বাবার ভাষণ সংশোধন ও দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, জ্যারেড কুশনার একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন, যেখানে সহিংসতার নিন্দা জানানোর কথা ছিল।
তবে বিবিসির আইনজীবীরা জানান, সরাসরি তাদের হাতে তলবি নোটিশ পৌঁছানোর চেষ্টা সফল হয়নি। ফ্লোরিডায় ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনারের বাড়িতে নোটিশ পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলে পুলিশি নিরাপত্তা চৌকিতে বাধা দেওয়া হয়। পরে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, নোটিশ গ্রহণও সম্ভব নয়।
এছাড়া নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের জন্য নোটিশ দিতে যাওয়া হলেও সেটি গ্রহণ করা হয়নি বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আরও একবার চেষ্টা করলে বিবিসির প্রতিনিধিকে জানানো হয়, ওই দিন আইন বিভাগে কেউ উপস্থিত নেই।
এর আগেই ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিভ্রান্তিকরভাবে তার ভাষণ সম্পাদনা করেছে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, ওই সম্পাদনার ফলে ভুলভাবে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে ট্রাম্প সরাসরি সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এদিকে মামলাটির অগ্রগতির জন্য বিবিসি ট্রাম্পের আর্থিক নথিও চেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রামাণ্য অনুষ্ঠানটি তার ব্যবসায়িক স্বার্থের ক্ষতি করেছে—ট্রাম্পের এমন অভিযোগ যাচাই করতে ওই নথি প্রয়োজন। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, এসব আর্থিক নথি প্রকাশ হলেই তার অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
মামলাটি এগিয়ে গেলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন