প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রশাসনে গতি আনা এবং সরকারি কর্মচারীর সংকট দূর করতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে, যদি প্রয়োজন হয়।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, "মাদক, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে।" এসব ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসন, পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
স্থানীয় রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "মাদক গ্রহণকারী, কারবারি, সংরক্ষণকারী, চাঁদাবাজ, ধর্ষক ও নারী নির্যাতনকারীদের পক্ষে কেউ কোনো সুপারিশ করবেন না।" যদি কেউ সুপারিশ করে, তাহলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন তা না শোনে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করেন। সমাজ ও দেশ রক্ষায় শক্তভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে।
মন্ত্রী পাহাড় কাটা, বনের গাছ কেটে লুট, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দলীয়করণের মাধ্যমে গত ১৭ বছরে পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে।" সেই সময় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করানো হয়েছে, যার কারণে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের কারণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর প্রশাসন ও বিধ্বস্ত অর্থনীতি নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছে। মানুষের কল্যাণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছে সরকার।
শেরপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে শেরপুর সর্বকনিষ্ঠ জেলা। জেলার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি। গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনের পাশাপাশি জেলাকে পর্যটনসমৃদ্ধ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ঝিনাইগাতীতে শিগগির একটি পর্যটন হোটেল নির্মাণের কথাও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় মাহমুদুল হক রুবেল এমপি, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এমপি, ডা. সানসিলা জেবরীন এমপি, পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশীদ, বিএনপি নেতা মো. হযরত আলী, জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি কাকন রেজাসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
এর আগে মন্ত্রী শেরপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন