প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি জানান, বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে আইন সবার জন্য সমান নিশ্চিত করবে এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। একইসঙ্গে কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হয়। এই সময় তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি, আইনের শাসন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করে আসছে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের কথা বলার সুযোগও ছিল না। মানুষের কষ্ট ও দুর্দশা দূর করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের জনগণ সেই স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপিকে দায়িত্ব দেওয়ার পর দলটি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে আইন সবার জন্য সমান। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে তারা কাজ করবে। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর মতো কাজে যদি বিঘ্ন ঘটে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের মানুষই।
বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক দল’ ও ‘গুপ্তদল’ শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এমন একটি রাজনৈতিক দলের ১৯৭১ সালের ভূমিকার কথা মানুষ জানে। ওই সময় মা-বোনদের হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে ওই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘গুপ্তবাহিনীর’ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ দেখা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তিনি তদন্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি এমন একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে নির্যাতনের পাশাপাশি একজন মানুষের জীবনাবসান হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ওই ‘গুপ্তদলের’ নেতাদের বিএনপিকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতে দেখা যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশে তিনি নিজের ঘরের দিকে আগে তাকানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের লোকজনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে আগে সেটি সামাল দেওয়া উচিত, এরপর অন্যদের বিষয়ে কথা বলা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মানুষের জন্য এবং দেশের কল্যাণে রাজনীতি করে। খাল খনন, নদী খনন ও ড্রেজিং, কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের সুফলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খাল ও নদী খননের কাজ সফল হলে এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হবে এবং ফসল উৎপাদন প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন বাড়বে।
এর আগে ফেনীর উত্তরাঞ্চলে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাধার পুনঃখনন, সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ইনলেট নির্মাণের কাজ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের কথা রয়েছে। এছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এরপর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন