প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেপ ভার্ডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি খেলার অপেক্ষায় রয়েছে।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শেষ বত্রিশের (রাউন্ড অব থার্টি টু) এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ঠিক আগমুহূর্তে, আফ্রিকান দলটি এক চরম অস্বস্তিতে পড়েছে।
দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান দৈনিক ‘ও গ্লোবো’র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে খোদ অধিনায়কের এমন আইনি জটিলতা ও শাস্তির শঙ্কা কেপ ভার্দে শিবিরের মনোবলে বড় এক ধাক্কা দিয়েছে, ফলে পুরো দল চরম উৎকণ্ঠার মুখে পড়েছে।
ঘটনাটি মার্চ মাসের। সে সময় নিউজিল্যান্ডে চিলি ও কেপ ভার্দেকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। কেপ ভার্দে দলের ভাষাগত সুবিধার জন্য একজন ব্রাজিলিয়ান নারীকে দোভাষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই নারী মেন্দেসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, কেপ ভার্দে দল যে হোটেলে অবস্থান করছিল, সেখানে একটি কক্ষের অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে সেখানে যান।
কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়; বরং একটি পার্টি। একপর্যায়ে শরীর খারাপ লাগায় তিনি নিজ কক্ষে ফিরে যান। এরপর মেন্দেস তার কক্ষে এসে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
তুরস্কের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ইগদির এফকেতে খেলা ৩৬ বছর বয়সী মেন্দেসের বিরুদ্ধে গত ১০ এপ্রিল অকল্যান্ডের আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর গত মাসে বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফাকে জানায়। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু প্র্যাগনেল জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী প্রথমে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় পরে তিনি স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগেরই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নিউজিল্যান্ডের আইনে যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধের শাস্তি কঠোর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেন্দেসের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
একদিকে বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্বপ্নের ম্যাচ খেলার রোমাঞ্চ, অন্যদিকে অধিনায়কের এই অন্ধকার অধ্যায়—সব মিলে কেপ ভার্ডে ফুটবল দল এখন এক চরম টানাপোড়েনে পড়ে গেছে।
তবে এ বিষয়ে মেন্দেস, তার আইনজীবী এবং কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও’গ্লোবোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন