প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন।
অনেকে মনে করছেন, তার এই বক্তব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে ভ্যান্সের অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনে আগেই আলোচনা চলছিল। তিনি প্রকাশ্যে এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানালেও, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে এর বিরোধিতা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এতদিন তার এই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসেনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া প্রায় ৬০০ শব্দের এক বিবৃতিতে ভ্যান্স তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি লেখেন, ‘আপনি যদি মনে করেন, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিনিময়ে এই যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে, তাহলে সরাসরি সেটাই বলুন।’ অনেকে তার এই বক্তব্যকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরো লেখেন, ‘যুক্তি দিয়ে বোঝান, কেন এই মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল। আপনি একমত হোন বা না হোন, অন্তত সেটি হবে সৎ অবস্থান।’ ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন নজির খুব কমই দেখা গেছে, যেখানে দায়িত্বে থাকা কোনো ভাইস প্রেসিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সরাসরি প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
তবে এরপর আরো বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। সাধারণত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছ থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য প্রত্যাশা করেন। কিন্তু এবার তিনি ভ্যান্সের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই একমত পোষণ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই’ ইরান যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত হয়েছে। তবে তিনি জানান, আবারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি ‘একই সিদ্ধান্ত নিতেন’।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে প্রাথমিকভাবে একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, ভ্যান্স ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিলে ট্রাম্প তাকে নিজের অবস্থান থেকে ভিন্নমত প্রকাশের যথেষ্ট স্বাধীনতা দিতে পারেন। সাধারণত ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছ থেকে কঠোর আনুগত্য প্রত্যাশা করা ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন