প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল ভবনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পাশাপাশি ক্রেনের সাহায্যে রোগী এবং স্বজনদের নামিয়ে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান তারা। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে নেভানোর কাজ শুরু করেন।
প্রাথমিকভাবে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে আরও ৬টি ইউনিট সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে ফায়ার সার্ভিসের খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম জানায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল ভবনের নীচতলার জেনারেটর রুম থেকে ধোয়া দেখা যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস খবর দেওয়া হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর রোগী, স্বজন ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন ঠিক কোন জায়গা থেকে বা কী কারণে লেগেছে তা জানা যায়নি। এদিকে, ওই হাসপাতালের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনও রয়েছে, সেখান থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনের চেয়ে ধোঁয়া বেশি দেখা যায়। এজন্য হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় রোগীর স্বজনদের জানালার গ্লাস ভেঙে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দেখা যায়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের মই দিয়ে সিঁড়ি সংলগ্ন জানালা থেকেও রোগী ও স্বজনদের নামাতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত যেতে পারে, যদিও হাসপাতালটি ১৬ তলাবিশিষ্ট। তবে এতবড় হাসপাতালে জরুরি বহির্গমনের কোনো সিঁড়ি নেই, এজন্য রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।
আগুনের ঘটনার পরপরই বেশকিছু রোগীকে নামিয়ে শান্তিধাম মোড়স্থ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে।
এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ধোয়ার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। রাত হওয়ায় আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ও রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ এবং স্থানীয়রাও কাজ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন