প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর খিলক্ষেতে চোরাই সোনা উদ্ধারে গিয়ে র্যাব ও পুলিশের যৌথ আভিযানিক দল হামলার শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান রেনুর বিরুদ্ধে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া, উসকানি দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে খিলক্ষেতের টানপাড়া এলাকার একটি জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। এ হামলায় র্যাব ও পুলিশের তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. সাজু (২৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করলেও বিএনপি নেতা রেনুসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাজশাহী বোয়ালিয়া মডেল থানার একটি মামলার পলাতক আসামি মো. রিয়াজুল ইসলামকে (৪৫) গত সোমবার বিকেলে খিলক্ষেতের টানপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে তিনি জানান, মামলার আলামত হিসেবে আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি সোনার চেইন নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার 'অনন্যা জুয়েলার্সে'র মালিক রবীন্দ্রনাথ সরকারের কাছে বন্ধক রাখা আছে।
স্বীকৃতিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে চেইনটি উদ্ধারে র্যাব ও পুলিশের ৯ সদস্যের একটি যৌথ দল অনন্যা জুয়েলার্সে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান রেনুর নেতৃত্বে সাজু, বাবলুসহ ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জুয়েলার্সের সামনে জড়ো হন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা শুরুতেই আভিযানিক দলকে চারদিক থেকে ঘেরাও করেন। এ সময় রেনু সোনা ফেরত না দিতে উপস্থিত জনতাকে উসকানি দেন এবং ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করে পরিবেশ উত্তপ্ত করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলার একপর্যায়ে রেনু লোহার রড দিয়ে কনস্টেবল মাহবুবুল হোসেন তপনের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে কনস্টেবল তপনের ডান হাত ও হাঁটুতে গুরুতর আঘাত লাগে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার সাজুর বিরুদ্ধে র্যাবের ল্যান্স কর্পোরাল মো. ইসরাইল হোসেনকে শারীরিকভাবে প্রহার ও ধারালো ছুরি দিয়ে জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আসামি বাবলু লাঠি দিয়ে আঘাত করে কনস্টেবল গোলাম মোর্শেদকে রক্তাক্ত করেন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছালে মূল অভিযুক্ত রেনু ও বাবলু পালিয়ে যান, তবে ঘটনাস্থল থেকে সাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আহত তিন সদস্যকে উদ্ধার করে উত্তরা কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানার পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম জামাল উদ্দিন খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বেআইনি সমাবেশ, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা এবং হত্যাচেষ্টার ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার ওসি (অপারেশনস) মো. হাফিজুর রহমান।
ঘটনাসম্পর্কে ওসি (অপারেশনস) মো. হাফিজুর রহমান জানান, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিএনপি নেতা রেনু ও বাবলুসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন