প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের মাধবপুরে আমেরিকা প্রবাসীর পরিবারের বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি সিআর ৫২/২০২৬ (মাধবপুর) নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে মামলার বাদী সানি আলম শ্রাবণ নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এ সময় পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।
মামলার বাদী ধর্মঘর ইউনিয়নের মালঞ্চপুর গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী শাহিনুর রহমানের ছেলে।
মামলা ও বাদীপক্ষের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় নিজেদের মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। তখন শামসুল ইসলাম কামালসহ অন্যান্য আসামিরা সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে বাদীপক্ষের লোকজনকে মারধর, জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া, ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, পরিবারের সদস্যরা আমেরিকা প্রবাসী হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মাধবপুর থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কথাও মামলার বাদীপক্ষ জানিয়েছে।
বাদী সানি আলম শ্রাবণ বলেন, “আমরা আমাদের বৈধ মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণ করছি। বিএনপির ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে লোকজন নিয়ে এসে নির্মাণকাজে বাধা এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিওও আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও শামসুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছিল এবং এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এছাড়া ধর্মঘর এলাকার এক নারীর দায়ের করা হামলা ও মাছ চুরির মামলাও আদালতে চলমান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, শামসুল ইসলাম কামালের মাদকবিরোধী বক্তব্যের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই বক্তব্যে তাকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলতে দেখা যায়।
বাদীর বাবা ও আমেরিকার নাগরিক শাহিনুর রহমান বলেন, “আমি আমার ছেলে ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই। যেকোনো সময় আমাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা দ্রুত ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তারা বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধের দায় বিএনপি নেবে না।
অভিযোগের বিষয়ে শামসুল ইসলাম কামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বিরোধপূর্ণ জায়গায় একটি সমাধানের জন্য গিয়েছিলাম। চাঁদা দাবির প্রশ্নই আসে না। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, মামলাটি বর্তমানে আদালতের প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সূত্র: The Daily Compass
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন