প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের মারিব, আল-জউফ, তাইজ এবং হুদায়দাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট একযোগে অন্তত ৩২টি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ভূ-পৃষ্ঠে নিজেদের সামরিক শক্তি ও সৈন্য সমাবেশ পুনর্গঠন করতেই রিয়াদ এই আকস্মিক হামলা ত্বরান্বিত করেছে।
২০২২ সালের দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের পর থেকেই এই অঞ্চলে অস্থিরতা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। আগস্টের গোড়ার দিকে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আগ্রাসনের পর ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর পর হুতি বিদ্রোহীরা বিমানবন্দর এবং অবরোধের বদলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে নতুন নীতি গ্রহণ করে। এর ফলস্বরূপ সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বেশ কয়েকটি শোধনাগার, আবহা বিমানবন্দর এবং মূল অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। তাছাড়া, সৌদিগামী ও সেখান থেকে প্রস্থানকারী সমস্ত সামুদ্রিক জাহাজের ওপর কঠোর নৌ-নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়।
আল-জউফ প্রদেশের খব ও আশ-শা'আফ জেলার ঐতিহাসিক সুক আল-ইয়াতামা এলাকায় সৌদি সৈন্য ও সামরিক ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে হুতি পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। ওই তীব্র লড়াইয়ে সৌদির পক্ষের বহু সাঁজোয়া যান ও সামরিক যানবাহন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় মাঠপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, সুক আল-ইয়াতামা বাজারসহ সংলগ্ন সমস্ত এলাকা থেকে প্রতিপক্ষকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে আল-জউফের বহির্ভাগে অবশিষ্টাংশ বাহিনীকে তাড়া করা হচ্ছে। ইয়েমেনি বাহিনী মূলত অতর্কিত হামলা, চারপাশ থেকে ঘেরাও এবং বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রাখছে।
রিয়াদ এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সানা সরকারের আওতাধীন বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং বেশ কিছু সাধারণ বেসামরিক বাসভবনে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি বাহিনীর খামিস মুশাইতের বাদশাহ খালিদ বিমান ঘাঁটি এবং তায়েফের বাদশাহ ফাহাদ বিমান ঘাঁটি থেকে তিন দিনের মধ্যে অন্তত ১২১টি পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। এই আক্রমণের মধ্যে আল-জউফের আল-হাজম কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে, যেখানে বন্দীদের পাশাপাশি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা বহু নারী ও শিশু মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
হুতি বিদ্রোহীরা এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি। তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিধ্বংসী ড্রোন বহর ব্যবহার করে সৌদি আরবের আবহা, নাজরান, জাজান এবং খামিস মুশাইতের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন হামলা চালায়। নাসার স্যাটেলাইট চিত্রেও আরামকোর জাজান শোধনাগার, আসির কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বাদশাহ খালিদ বিমান ঘাঁটিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের তাপীয় সংকেত স্পষ্ট ধরা পড়েছে।
পরবর্তীতে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সাময়িকভাবে ওই সমস্ত কেন্দ্রে উৎপাদন ও পরিচালনা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন