প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে নিজের দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরো। ছবির ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘দৃঢ় আছি’।
রবিবার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মাদুরো কারাগারের পোশাক পরিহিত। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে আটক হওয়ার পর থেকে তিনি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
মাদুরোর সঙ্গে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও ওই অভিযানে আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা চলছে।
তবে মাদুরো এবং তার স্ত্রী উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। টেলিগ্রাম বার্তায় মাদুরো লেখেন, ‘আমার সব নাতি-নাতনি, ছেলেমেয়ে এবং আমাদের ভালোবাসেন এমন সব ভালো মানুষের জন্য ছোট্ট উপহার হিসেবে পাঠাচ্ছি এই ছবিগুলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই আপনারা জানুন, আমরা দৃঢ় আছি, আমাদের হৃদয় আপনাদের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।’ প্রকাশিত ছবিতে ধূসর রঙের পোশাক পরা মাদুরোকে দুই হাতে শান্তির প্রতীক প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
মাদুরোকে আটকের পর থেকে তার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মনে হয়েছে ছবিতে। রবিবার ছবিগুলো প্রকাশ করা হলেও ছবির ধারণার তথ্য অনুযায়ী, এগুলো গত ২৫ জুন তোলা। ওই দিন ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।
মাদুরো তার বার্তায় আরও বলেন, ‘আমরা শক্ত, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকব। ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন, তিনিই পথ দেখাবেন।
আবার ঘুরে দাঁড়াবে ভেনেজুয়েলা।’ মাদুরোর উত্তরসূরি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রকে তেলক্ষেত্র পরিচালনার সুযোগ দিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ তেল চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পর এই বার্তা দেন মাদুরো।
ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মধ্যে দেশ পরিচালনা করছেন রদ্রিগেস। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, তিনি চান ভেনেজুয়েলা একটি ‘জ্বালানি শক্তিতে পরিণত হোক’।
সাবেক এই নেতার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কারাগারে মাদুরোর সংবাদপত্র বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে মাসে প্রায় ৩০০ মিনিট টেলিফোনে কথা বলার অনুমতি রয়েছে তার। প্রতিটি ফোনালাপ সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট স্থায়ী হতে পারে।
মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা জানিয়েছেন, তার বাবা ভালো আছেন এবং কারাগারে সময় কাটাচ্ছেন বাইবেল পড়ে। মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মামলার বিচার আগামী ১ জুন থেকে শুরু হবে। নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত গত জুলাইয়ের শেষ দিকে এই তথ্য জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন