০৩:১৯ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ের একটি মামলায়, যা প্রায় ১১ বছর আগে গঠিত হয়, একটি বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি মো. আব্দুল মমিন নামক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করেছে।
আদালত এ রায়ের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন যে, অর্থদণ্ডের পুরো পরিমাণ ভুক্তভোগীর জন্য ক্ষতিপূরণের অর্থ হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে, প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে, ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত মো. আব্দুল মমিন রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামানিকের ছেলে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে খাবারের অভাবে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বানর, সংখ্যা কমছে
আদালত সূত্র indicates, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে আনুমানিক ৮টার দিকে, মো. আব্দুল মমিন প্রতিবেশী ১৪ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে নিজ বাড়িতে ধর্ষণ করছে, এ সময় ভুক্তভোগীর মা পাশের বাড়িতে ছিলেন। তার মা ফিরে আসার পর দেখেন, আব্দুল মমিন শিশুটিকে ধর্ষণ করছে। বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে, স্থানীয় লোকজন এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়া হলেও যে কারণে কোনো প্রতিকার না পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর পরিবার রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করে।
পুলিশ মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমের পর আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে মো. আব্দুল মমিনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এখন, আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অর্থদণ্ডের পুরো অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। যদি দণ্ডিতের বিদ্যমান সম্পত্তি থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হয়, তবে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পত্তি থেকেও তা আদায় করা যাবে। এই কারণে ক্ষতিপূরণের দাবিই সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাবে। জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার জন্য।
একই মামলার অপর আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। সেইসাথে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের নির্দেশ, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন