প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। বহু অভিনেতা রাজনীতিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানের পর, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ধানুশও নতুন করে আলোচনায় আসেন। প্রশ্ন উঠেছে, তিনিও কি এবার রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন?
ধানুশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং ভক্তদের নিয়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এই জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিনেতার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এসব গুঞ্জনে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৫ অক্টোবর চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে একটি বেসরকারি কলেজে নারী ভক্তদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেন ধানুশ। সেখানে তিনি পদ্মফুল খোদাই করা রুপার প্রদীপ উপহার দেন, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক। এই উপহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
এর আগে দিল্লি সফরে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ধানুশের সাক্ষাতের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার পর অভিনেতার সঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কংগ্রেস নেতা মানিকম ঠাকুর বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি একজন জনপ্রিয় অভিনেতাকে সামনে এনে রাজনৈতিক সমীকরণে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে এআইএডিএমকের সাধারণ সম্পাদক এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামীকে কাজে লাগানো, দ্বিতীয় ধাপে কে আন্নামালাইয়ের মাধ্যমে নতুন দল গঠন এবং তৃতীয় ধাপে কোনো অভিনেতাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকের কিছু নেতা ধানুশকে তাদের দলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনীতিতে ধানুশের সম্ভাব্য প্রবেশের জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে তার ভক্ত সংগঠনের সাম্প্রতিক পরিবর্তন। ১৪ অক্টোবর ভক্ত সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে ‘ধানুশ ওয়েলফেয়ার মুভমেন্ট’ রাখা হয়েছে। এরপর সংগঠনের নতুন পতাকা ও প্রতীক চালুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সংগঠনের নেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক সুব্রামানিয়াম শিবা জানিয়েছেন, পতাকাটি নতুন নয়। এটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। পতাকার মাঝখানে লাল তারকা ও ধানুশের ছবি রয়েছে। দুই পাশে তামিল ভাষায় লেখা ‘এন্নামপোল থান ভাঝক্কাই’। এর অর্থ, মানুষের জীবন তার চিন্তারই প্রতিফলন।
শুধু ভক্ত সংগঠন নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ধানুশের সংগঠনের। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনে শিক্ষার্থীদের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বিনা মূল্যের পাঠদানকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে এসব কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন শিক্ষক ও একজন সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের বেতনের দায়িত্বও নেবে সংগঠনটি।
এ ছাড়া সংগঠনের সদস্য ও সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তার জন্য রাজ্যজুড়ে তিন হাজার আইন উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২৭ জুলাই তিরুভাল্লুর জেলায় এক অনুষ্ঠানে ভক্তদের উদ্দেশে ধানুশ বলেছিলেন, শুধু তার সিনেমার মুক্তি কিংবা গানের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেই হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও বড় কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। তার এই বক্তব্যও নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
এক ভক্তের দাবি, ২০২৫ সাল থেকেই নিয়মিত সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন ধানুশ। তৃণমূল পর্যায় থেকে নিজের সমর্থকগোষ্ঠীকে সংগঠিত করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য। ওই ভক্তের আরও দাবি, ধানুশের সমর্থকদের একটি বড় অংশ ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়কে ভোট দিয়েছিলেন।
তবে এতসব আলোচনা ও জল্পনার মধ্যেও ধানুশের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, আপাতত অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত তিনি। তার আগামী ছবি ‘ওএম’-এর পরিচালক রাজকুমার পেরিয়াসামিও রাজনীতিতে ধানুশের যোগ দেওয়ার গুঞ্জনকে গুরুত্ব দিতে চাননি। পরিচালকের ভাষ্য, ধানুশ সিনেমার প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনার কথা তার জানা নেই।
বর্তমানে ধানুশের ৫৫তম ছবির কাজ চলছে। এরই মধ্যে ৫৬তম ছবির মহরতও সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি অন্য ভাষার সিনেমাতেও অভিনয় করছেন তিনি। ‘ওএম’ ছবিটি আগামী ২০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন