প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের মীরনগর গ্রামে যৌতুকের টাকার দাবি নিয়ে মনিকা আক্তার (২৪) নামে একটি গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই নির্যাতনের অভিযোগের তীর তার স্বামী মো. ছোট্ট মিয়ার দিকে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে।
নির্যাতনের একটি ভিডিও যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এলাকাতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানার নজরে আসার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠান। পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ছোট্ট মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
মনিকা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী যৌতুকের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। এর আগেও বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে স্বামীকে দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়, যার ফলে তার বাম পা ও ডান হাত ভেঙে যায় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
মনিকা আরও জানিয়েছেন, এর আগে স্বামীর আগের স্ত্রীর ঘরের বড় মেয়ে মৌসুমীর হাতেও একাধিকবার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মনিকা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই গ্রামের মৃত মফিজ মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত ছোট্ট মিয়া মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের মীরনগর গ্রামের মৃত দুধ মিয়ার ছেলে।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, "ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর মা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধ বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন