প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিশুদের ডিম খাওয়ানোর বিষয়ে নতুন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জীবনের শুরুতেই ডিম খাওয়ানো শুরু করলে ডিমে অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। গবেষণায় হারানো অ্যালার্জির ঝুঁকির সঙ্গে শিশুদের খাদ্য অভ্যাসের পরিবর্তনের একটি দিক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া থেকে পাওয়া নতুন তথ্য কার্যকর হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড এবং মুরডক চিলড্রেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা এ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তাদের মতে, শিশুকে দেরিতে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার না দিয়ে, বরং নিয়ন্ত্রিতভাবে আগেভাগে এসব খাবার দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। প্রায় ৭ হাজার ২০০ অস্ট্রেলিয়ান শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা শিশুর খাদ্য নির্দেশিকা বাস্তবায়নের প্রভাব নিয়ে তুলনা করেন। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিশুকে প্রথম এক বছরের মধ্যে ডিম খাওয়ানো উচিত। গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জাতীয় শিশু খাদ্য নির্দেশিকার পরিবর্তনের পর ডিমে অ্যালার্জির হার ১৭ শতাংশ কমে গেছে। গবেষণায় গবেষকরা বলেন, আগে ধারণা ছিল যে, অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার দেরিতে দিলে ঝুঁকি কমে যায়, কিন্তু এখন তারা বলছেন, জীবনের শুরুতেই এসব খাবার শরীরে প্রবেশ করলে ইমিউন সিস্টেম সহজেই সেগুলোকে ‘নিরাপদ’ হিসেবে চিনতে পারে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে ডিম খেলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে শত্রু হিসেবে না দেখে সহনশীলতা তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঝুঁকিকে কমাতে সক্ষম। একজিমা আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রেও গবেষণায় দেখা গেছে, এই গোষ্ঠীতে ডিমের অ্যালার্জির হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজিমা থাকা শিশুদের ত্বকের মাধ্যমে অ্যালার্জেন প্রবেশের ঝুঁকি বেশি থাকে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ান স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিশুদের প্রায় ছয় মাস বয়স থেকে রান্না করা ডিমসহ অন্যান্য অ্যালার্জি-সৃষ্টিকারী খাবার ধীরে ধীরে খাওয়ানো যেতে পারে। তবে গবেষণায় শিশুদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এক বছরের আগেই এসব খাবার পরিচয় করানোই মূল লক্ষ্য। গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফল অভিভাবকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা প্রদান করে। যদিও আগেভাগে ডিম খাওয়া অ্যালার্জি পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারে না, তবে ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, সব শিশুর ক্ষেত্রে ফলাফল একই নাও হতে পারে, তবে সঠিক সময়ে খাদ্য পরিচয় করানো শিশুর খাদ্য অ্যালার্জি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন