প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ থেকে টাইব্রেকারে বিদায় নেওয়ার পরেও নিজের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে অনুতপ্ত নন নেদারল্যান্ডসের কোচ রোনাল্ড কুমান। বরঞ্চ তাঁর দাবি, মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পরিকল্পনা দলের জন্য ছিল সবচেয়ে কার্যকর এবং একই পরিস্থিতি পুনরায় এলে তিনি আবারও একই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
মরক্কোর বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমাপ্ত হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচটিতে ডাচদের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে সরে এসে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন কুমান। এই সিদ্ধান্তের জন্য ম্যাচ শেষে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন তিনি। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কুমান বলেন, এই কৌশলের কারণে তাঁর দল পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোর তুলনায় কম ভুল করেছে।
কুমানের ভাষ্যে, "এই কৌশলে আমরা আগের ম্যাচের তুলনায় কম বল হারিয়েছি"। তিনি এটিকে ইতিবাচক একটি দিক হিসেবে বিবেচনা করেন এবং স্বীকার করেন যে, আক্রমণে কিছুটা কম কার্যকর ছিলেন। সমালোচকদের উদ্দেশে কুমান বলেন, কৌশল নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের তুলনায় মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর পরিকল্পনা সফল ছিল।
তিনি আরো বলেন, "যদি আবার একই পরিস্থিতি আসে, আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই একই কৌশল গ্রহণ করব।" নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত কোনো মন্তব্য করতে চাননি ডাচ কোচ। তাঁর মতে, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যদি মরক্কো সমতা ফিরিয়ে আনতে না পারতো, তবে সবাই তাঁর পরিকল্পনাকে সফল বলত।
কুমান বলেন, "যদি মরক্কো শেষ মুহূর্তে গোল না করত, তাহলে হয়তো আমি আজ প্রশংসিত হতাম। কিন্তু এখন পাঁচ ডিফেন্ডার খেলানোর জন্য সমালোচনা হচ্ছে। তবুও আমি বিশ্বাস করি, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।" তিনি আরো জানান, ম্যাচের আগে এই পরিকল্পনা নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল এবং তাঁরাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।
সমালোচনার জবাবে কুমান বলেন, "আপনারা সমালোচনা করতেই পারেন, সেটি আপনাদের অধিকার। কিন্তু আপনারা ম্যাচ দেখেন সাইডলাইন থেকে, আর আমি মাঠে দলের সঙ্গে বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিই। কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটিও আমি জানি। তবে একই পরিস্থিতি এলে আমি আবারও একই সিদ্ধান্ত নেব।" রক্ষণাত্মক কৌশলকে ভয়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে কুমান মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এটা ভয়ের বিষয় নয়। কেন আমি ভয় পাব? মাঠে আমাদের তিনজন স্ট্রাইকার ছিল। লক্ষ্য ছিল রক্ষা আরও সংগঠিত করা এবং প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করে সেভাবেই পরিকল্পনা সাজানো। কারও ভিন্ন মত থাকতে পারে, আমি সেটিকে সম্মান করি। তবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন